নিজ হাতে ড্রেন পরিষ্কার করলেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক

শার্টের হাতা গুটিয়ে, হাতে গ্লাভস পরে ড্রেনের কাদামাটি ও ময়লা পরিষ্কার করছেন খোদ জেলার শীর্ষ কর্মকর্তা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের সামনে বন বিভাগ সংলগ্ন এলাকায় এমন ভিন্নধর্মী ও অনুকরণীয় দৃশ্য চোখে পড়ে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনার অংশ হিসেবে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

হাতে কোদাল তুলে নিয়ে জেলা প্রশাসক যখন নিজেই ড্রেনের আবর্জনা পরিষ্কার করতে শুরু করেন, তখন তা কেবল একটি দাপ্তরিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, রূপ নেয় সর্বজনীন সামাজিক অনুপ্রেরণায়। তার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক এ.কে.এম. আব্দুল্লাহ বিন রশিদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়াহিদুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

শুধু পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়েই ক্ষান্ত হননি জেলা প্রশাসক, তিনি সরাসরি কথা বলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে। কার্যক্রম চলাকালে ঝোপঝাড় ও প্লাস্টিক আবর্জনায় পূর্ণ স্থান পরিদর্শন করে তিনি সংশ্লিষ্টদের ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করেন। ড্রেনে যত্রতত্র প্লাস্টিক বা ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ব্যবহারের কড়া নির্দেশ দেন তিনি। ডেঙ্গুতে বর্তমানে মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক স্থানীয়দের জানান, ডেঙ্গু মশা ধনী-গরিব বা ছোট-বড় কারো পরিচয় দেখে কামড়ায় না; তাই নিজেদের জীবন রক্ষার্থে নিজ নিজ বাসাবাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখার কোনো বিকল্প নেই।

গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে জেলা প্রশাসক জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ডেঙ্গু মোকাবেলায় তিন মাসের ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগকে একটি ব্যাপক ‌‘সামাজিক আন্দোলনে’ পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, “চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম” (Charity begins at home)- অর্থাৎ পরিবর্তনের সূচনাটা নিজেদের ঘর থেকেই করতে হবে। নাগরিকরা যদি নিজ দায়িত্বে তাদের বাসা ও চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখেন, তবেই পরিচ্ছন্ন নেত্রকোনা গড়া সম্ভব হবে। সামাজিক এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে ভবিষ্যতে স্কাউটস সদস্যদেরও মাঠে নামানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

জেলা প্রশাসন ও নেত্রকোনা পৌরসভার যৌথ সমন্বয়ে প্রতি শনিবার পরিচালিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু পৌর শহরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এই কার্যক্রম ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত অব্যাহত রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, নেত্রকোনা জেলায় প্রায় ২৫ লাখ মানুষের বসবাস। পৌরসভার সীমিত জনবল দিয়ে এত বিশাল সংখ্যক মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিশ্চিত করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ। তাই একক কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সফল করা সম্ভব নয়। ডেঙ্গুর মতো নীরব ঘাতক থেকে বাঁচতে সমাজের সকল শ্রেণির, পেশার ও বয়সের মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনে শরিক হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত ও সরাসরি অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সচেতন মহলের মতে, কর্তাব্যক্তিদের এমন মাঠপর্যায়ের উদ্যোগ সাধারণ নাগরিকদের নিজেদের দায়িত্ব পালনে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করবে।

পড়ুন:বর্নাঢ্য আয়োজনে চাটমোহর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দিনব্যাপী পুণর্মিলনী উৎসব

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন