২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৬৫ জন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ তিনজন, সিলেট ও চট্টগ্রামে দুইজন করে এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২২২ জনে। তাঁদের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের কারণে ১০৪ জন এবং হামসদৃশ উপসর্গের কারণে এক হাজার ১১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এক হাজার ১৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে দেশে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দুই লাখ ১৯ হাজার ৮৮৪ জন। এছাড়া গত একদিনে নতুন করে ৫১ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যার ফলে মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ২৩ হাজার ৩২৪ জনে।

গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ৫১৪ জনে। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে হাসপাতাল ছেড়েছেন এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৫ জন রোগী।

হামের প্রধান প্রধান লক্ষণসমূহ:

স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যানুযায়ী, হামে আক্রান্ত হলে রোগীর দেহে নানা ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি লক্ষণ হলো:

তীব্র জ্বর: হামের শুরুতেই শরীর বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অনেক সময় এই জ্বর ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।

সর্দি ও কাশি: অনবরত হাঁচি দেওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং তীব্র শুকনো কাশি হওয়া হামের প্রাথমিক ও সাধারণ লক্ষণ।

চোখের সমস্যা: আক্রান্ত শিশুর চোখ লাল হয়ে যায়, অনবরত পানি পড়ে এবং আলোতে তাকালে চোখে তীব্র অস্বস্তি বা ব্যথার অনুভূতি হয়।

মুখের ভেতর সাদা দাগ (কপলিক স্পট): সাধারণত জ্বর আসার দুই থেকে তিন দিনের মাথায় মাড়ির পাশে বা গালের ভেতরের চামড়ায় ক্ষুদ্র লবণের দানার মতো সাদাটে দাগ ফুটে ওঠে।

লালচে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ: জ্বর শুরু হওয়ার ৩ থেকে ৫ দিন পর প্রথম কানের পেছন ও মুখে লাল দানাদার ফুসকুড়ি দেখা দেয়। পরবর্তীতে তা ঘাড়, বুক, পিঠ ও হাত-পাসহ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

শারীরিক দুর্বলতা ও অরুচি: পেশিতে ব্যথাসহ শরীর ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খাবারের প্রতি তীব্র অরুচি তৈরি হয়। ক্ষেত্রবিশেষে পাতলা পায়খানা কিংবা বমিও হতে পারে।

পড়ুন : ফিলিপাইনে মাঝআকাশে দুটি প্রশিক্ষণ বিমানের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৪ পাইলট নিহত

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন