পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ. কে. এম. ফয়সাল আলমের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ও বিভিন্ন দূর্নীতির অভিযোগ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কিছু শিক্ষক আর এ অনাস্থা প্রস্তাবকে ঘিড়ে রয়েছে ব্যাপক চানচঞ্চল্য, অভিযোগ রয়েছে সমিতির কিছু শিক্ষক বেশ কয়েকজন শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল ও সমিতির মিটিং এর কথা বলে এবং কিছু শিক্ষকের কাছ থেকে জোড় করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব কিছু ‘ভিত্তিহীন, জালিয়াতিপ‚র্ণ ও ষড়যন্ত্রম‚লক’ দাবি করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সমিতির শিক্ষক নেতা ও সাধারণ সদস্যরা।
প্রাপ্ত চিঠিপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সভাপতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে একটি অনাস্থা প্রস্তাব পাঠানো হয়। বিষয়টি জানার পরই সংগঠনের পদস্থ একাধিক নেতা লিখিত বক্তব্য দিয়ে অনাস্থা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন।
সমিতির সমাজ কল্যাণ সম্পাদক শশাঙ্ক হীরা,সমবায় সম্পাদক হুমায়ুন রাজীব ও সদস্য মিলন শীল অভিযোগ করেন, অনাস্থা প্রস্তাবে তাঁদের নাম ব্যবহার করে স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। অন্যদিকে, যোগাযোগ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান ফারুক, শিক্ষা সম্পাদক কাজী শামীম ও সদস্য মোঃ নান্না মিয়া জানান, জোরপ‚র্বক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল, যা তাঁরা প্রত্যাহার করেছেন। সংস্কৃতি ও বিনোদন সম্পাদক প্রণব পার্থ হাজরা,সহ-মহিলা বিষায়ক সম্পাদক শিল্পী কর্মকার জানান, সমিতির মিটিংয়ের কথা বলে ভুল বুঝিয়ে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর আদায় করা হয়।
এ ছাড়া,সহকারী শিক্ষক সজল বিশ্বাস ও মাঈনুল ইসলাম বলেন সভাপতির বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ লেনদেনের যে অভিযোগ তুলেছিলেন অনাস্থা প্রস্তাব ও লিখিত অভিযোগে সে অভিযোগ সম্প‚র্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, আমরা কেউ কোন অভিযোগ করিনি, এ নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছি যে আমাদের কোন অভিযোগ না থাকা সত্যেও তারা আমাদের নাম ব্যবহার করেছেন।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন ও সমবায় সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন রাজীব নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, এ. কে. এম. ফয়সাল আলমের নেতৃত্বে সংগঠনের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে চলছে। একটি কুচক্রী মহল ভাবম‚র্তি নষ্ট করতে জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। শিক্ষক নেতারা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রæত ভুয়া অনাস্থা প্রস্তাবটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ওই মহলটি শিক্ষকদের জাল স্বাক্ষর করে কমিটির বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েই খ্যান্ত হয়নি এমনকি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদকের স্বাক্ষক’ও জাল করে প্রধান শিক্ষক মো: জামিল হোসেন কে সভাপতি ও মো: আলমগীর হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে তারা একটি নতুন কমিটি গঠন করেন, যাহা কেন্দ্রীয় কমিটি অবগত নয় বলে নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, এছাড়া তিনি আরো বলেন, তবে শুনেছি নতুন একটি কমিটি করেছে,সেই কমিটিতে আমি স্বাক্ষর করিনি,যাকে সভাপতি করা হয়েছে তিনি গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ১৭ এর চ ধারার বিধি বহির্ভুত। উক্ত ধারায় বলা আছে যে, উপজেলা জেলা কমিটির সভাপতি হতে হলে পি আর এল সহ চাকুরির বয়স কমপক্ষে ৪ বছর থাকতে হবে,যাহা তার নাই, তবে এ বিষয়টিই সম্পূর্ণ জাল জালিয়াতী।
এবিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমিতির নাজিরপুর উপজেলা সভাপতি একে এম ফয়সাল আলম বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ এনেছে তাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, আমি ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে কোন শোকজ নোটিশ বা তদন্ত না করে গত ১০ অক্টোবর একটি নতুন কমিটির আবির্ভাব হয়,আমি কেন্দ্রীয় কিমিটিতে যোগাযোগ করলে সাধারণ সম্পাদক বলেন,আমি জানি না এবং ওই কমিটিতে আমি কোন স্বাক্ষর করি নাই। আমি কেন্দ্রীয় কমিরি কাছে দাবী জানাই তদন্ত পূর্বক সত্য উদঘটন করত অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল করা হোক।
পড়ুন : সিরাজগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক পথচারী নিহত


