রোববারই ইরানে হামলা শুরু হতে পারে বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো মুহূর্তে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর আশঙ্কা দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রোববারই এই হামলা শুরু হতে পারে অথবা ইরানের সঙ্গে একটি ‘বড় চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর পাম বিচ কাউন্টি সুপারভাইজার অব ইলেকশনস কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সাংবাদিকরা ইরানে সম্ভাব্য হামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “আমরা হামলার ব্যাপারে ভাবছি, সম্ভবত আগামীকাল (আজ রোববার) হতে পারে।”

তবে তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে কোনো চুক্তিতে রাজি হয়, তবে এই নতুন হামলা থেকে রক্ষা পেতে পারে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, “ইরানিরা চুক্তি চায়। কিন্তু সমস্যা হলো তারা কী চুক্তি মানার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে পারবে?”

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, তাঁর মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। গত বছরের জুনে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছিল। তবে ট্রাম্পের মতে, সেই হামলাটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাকে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে হবে। আর একমাত্র সে কারণেই আমি পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

হরমুজ প্রণালির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন, ওই প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগের মতোই তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে; যদিও তিনি এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। হরমুজ প্রণালির অবরোধ ঘিরে ইরানকে দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করতে চাইছে ওয়াশিংটন। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে ইরান একগুচ্ছ শর্ত দিলেও ট্রাম্প প্রশাসন তা মানতে নারাজ।

চুক্তি না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমার কাজটি হয়তো সম্পন্ন করতে হবে। আর নয়ত তারা হয়তো চুক্তি করবে। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই। সামরিক হামলা বা চুক্তি যেভাবেই হোক আমরা জিতব।”

এদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানও সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। তাদের অভিমਤ, এই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষের জন্যই সামরিক উপায়ে চূড়ান্ত সমাধান পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের বাহিনীগুলো বাণিজ্যিক জাহাজে নিয়মিত হামলার ধারায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। সেপ্টেম্বর থেকে স্থলভাগে বড় কোনো আক্রমণ না হলেও যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনের শঙ্কা রয়েছে।

পড়ুন : এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন