বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শ্রেষ্ঠতে ৯টি নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো কোকো ১৮তম জাতীয় সামার এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশ এ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় তিনদিনব্যাপী প্রতিযোগিতায় ২১ স্বর্ণ, ২০ রৌপ্য ও ১৯ ব্রোঞ্জসহ মোট ৬০টি পদক জিতে সেরা হয় সেনাবাহিনী। ১৮ স্বর্ণ, ১৭ রৌপ্য ও ১০ ব্রোঞ্জসহ মোট ৪৫টি পদক নিয়ে ২য় অবস্থানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং ১ স্বর্ণ ও ৩ ব্রোঞ্জসহ মোট ৪টি পদক জিতে ৩য় স্থানে থেকে আসর শেষ করেছে বিকেএসপি।
আসরে সেরা এ্যাথলেটের পুরষ্কার ১০০সিসি ইলেট্রনিক্স মোটরসাইকেল জেতেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমান। তিনি ১০০মিটার, ২০০মিটার ও ৪*১০০মিটার রিলেতে স্বর্ণপদক জিতে সেরা এ্যাথলেট নির্বাচিত হন। এছাড়া মহিলা এ্যাথলেটদের মধ্যে সেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কার হিসেবে নগদ ৮০ হাজার টাকা পান নৌবাহিনী প্রিয়া আক্তার। তিনি ৮০০, ১৫০০ ও ৩০০০ হাজার মিটার দৌড়ে সোনা জেতেন। এর মধ্যে ১৫০০ ও ৩০০০ হাজার মিটারে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েন প্রিয়া।
রবিবার বিকেলে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর চেয়ারম্যান মানোয়ার হোসেন ও নোমান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জুবায়ের। এ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ জাবের এর সভাপতিত্বে পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি প্রফে. ইঞ্জি. ড. মোঃ সাব্বির মোস্তফা খান, ওমর গণী চৌধুরী ও মোঃ ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলী ইমাম তপন, যুগ্ম-সম্পাদক মনজুর মোরশেদ এবং মাহবুবুল আলম টুকু।
শেষদিনে রবিবার ১০টি ইভেন্টের খেলা সম্পন্ন হয়। এগুলোর উল্লেখযোগ্য ইভেন্টগুলোর মধ্যে পুরুষদের ১০হাজার মিটার দৌড়ে সেনাবহিনীর সোহানুর রহমান (৩৩ মিনিট ১২.৪০ সেকেন্ড) স্বর্ণপদক জয় করেন।
বিকালে দিনের আকর্ষণীয় ইভেন্ট পুরুষ ও মহিলাদের ২০০মিটার স্প্রিন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এই ইভেন্টের পুরুষ বিভাগে ২১.১৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করে স্বর্ণ পদক জেতেন নৌবাহিনীর ইমরানুর রহমান। ২১.৬৩ সেকেন্ড সময়ে সেনাবহিনীর শান্ত কর্মকর রৌপ্য এবং ২১.৭৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন নৌবাহিনীর রাকিবুল হাসান।
রেকর্ড গড়ে মহিলাদের ২০০মিটার স্প্রিন্টে সোনা জেতেন নৌবাহিনীর শিরিন আক্তার। তিনি সময় নেন ২৪.৩৪ সেকেন্ড। এর আগে ২০২৪ সালে ২৪.৬৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন শিরিন নিজেই। এই ইভেন্টে ২৫.১১ সেকেন্ড সময়ে রৌপ্য জেতেন সেনাবাহিনীর শরিফা খাতুন এবং ২৫.৩৩ সেকেন্ডে ব্রোঞ্জ জিতে নেন একই সংস্থার বর্ষা খাতুন।
পুরুষদের ৮০০মিটার দৌড়ে ১ মিনিট ৫৩.৫৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জেতেন সেনাবাহিনীর মোশারফ হোসেন। ১ মিনিট ৫৪.৯৫ সেকেন্ড সময়ে একই সংস্থার রাকিবুল ইসলাম রৌপ্য ও ১ মিনিট ৫৬.৭৪ সেকেন্ডে ব্রোঞ্জ জয় করেন বিকেএসপির মোঃ সামি ইসলাম সানি। ৮০০মিটার মহিলা ইভেন্টে ২ মিনিট ১৭.৮৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জেতেন নৌবাহিনীর পাপিয়া আক্তার। ২ মিনিট ১৯.৩৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেনাবহিনীর মুন্নি কর্মকর রৌপ্য ও ২ মিনিট ২০.৮৩ সেকেন্ড সময়ে ব্রোঞ্জ জিতেন নৌবাহিনীর মোছাঃ সুমাইয়া আক্তার।
দিনের শেষ ইভেন্টে মহিলাদের ৪*৪০০মিটার রিলেতে ৩ মিনিট ৪৮.৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ড গড়ে স্বর্ণ জেতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী (শিরিন আক্তার, সুমাইয়া আক্তার, নুসরাত জাহান রুনা ও সুমাইয়া দেওয়ান)। এই ইভেন্টে ৩ মিনিট ৫২.৮৮ সেকেন্ড সময়ে সেনাবাহিনী রৌপ্য পদক এবং ৪ মিনিট ৯ দশমিক তিন সেকেন্ড সময়ে ব্রোঞ্জ জেতে বিকেএসপি।
এর আগে গত ২৩ অক্টোবর বিকালে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ মাহফুজুল আলম খান, অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলী ইমাম তপন, যুগ্ম-সম্পাদক মোঃ মনজুর মোরশেদ ও মাহবুবুল আলম টুকুসহ সহ ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।
সেরা কোচ/সংগঠক: আনসার আলী (কোচ,বাংলাদেশ নৌবাহিনী)। তাঁর দক্ষ দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণে তাঁর অধীনস্থ ৫ জন অ্যাথলেট এই গেমসে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
এবারের কোকো ১৮তম জাতীয় সামার এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার টাইটেল স্পন্সর ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন’ এবং পাওয়ার্ড বাই ‘আনোয়ার ইস্পাত’। প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে পাশে রয়েছে ওরিয়ন গ্রুপ, কাই এ্যালুমিনিয়াম, শেলটেক, টিকে গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, আলফা এলিভেটর এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিঃ, গনি গ্রুপ, নোমান গ্রুপ, একেএস, রুপালী ব্যাংক লিঃ, প্রাণ গ্রুপ ও সামির এন্টারপ্রাইজ। এছাড়া গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে স্টিলটেক, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেড, আনোয়ার সিমেন্ট, সেজান, আনোয়ার সিমেন্ট শীট, ঢাকা ওয়াসা, বুয়েট, এ্যালটেক এ্যালুমিনিয়াম, এক্সপলয়েট ও প্রোফম।
পড়ুন : নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-এর দ্বিতীয় আসরের প্রস্তুতি দেখতে খুলনায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী


