ধামরাইয়ে জিনলিয়ান ইলেক্ট্রনিক্স কারখানায় আগুন, আহত চীনা নাগরিক

ঢাকার ধামরাইয়ে জিনলিয়ান ইলেক্ট্রনিক্স টেকনোলজি বাংলাদেশ লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে মিস্টার উইলসন (৫০) নামে এক চীনা নাগরিক আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের নবগ্রাম এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে আগুন লাগে। ধামরাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১০টা ৩০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত ১০টা ৫০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। প্রায় ২০ হাজার বর্গফুটের দোতলা স্টিল স্ট্রাকচার ভবনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্মীদের প্রচেষ্টা চালাতে হয়। রাত ১১টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।

ধামরাই ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা আল আমিন খানের নেতৃত্বে আগুন নেভানোর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে আগুনে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। আহত চীনা নাগরিকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের শিকার এই প্রতিষ্ঠানটি এর আগে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে আলোচনায় আসে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কারখানাটিতে অভিযান চালায় ঢাকার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (পশ্চিম)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি লিথিয়াম ব্যাটারি প্রস্তুতকারক হিসেবে নিবন্ধিত। তবে অভিযানের সময় কারখানায় তৈরি ব্যাটারির পাশাপাশি ব্যাটারি তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জাম এবং আমদানি করা মোবাইল চার্জার, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হেডফোন ও ব্লুটুথ হেডফোন পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ভ্যাট ফাঁকির সন্দেহ হওয়ায় অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির দলিলপত্র জব্দ করা হয়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জব্দ করা নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটির ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ১৮ হাজার ৫০৭ টাকার বিক্রির তথ্য গোপনের তথ্য পাওয়া গেছে। এতে ১ কোটি ৮৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯২ টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া ১৫ কোটি ২২ লাখ ৮ হাজার ৭৭৫ টাকার পণ্য ও কাঁচামাল কেনার তথ্য গোপন করায় আরও ১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৭ হাজার ১৬১ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায় বলে জানায় এনবিআর।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, দুই খাতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মোট ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৫৩ টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। তবে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগের সঙ্গে রোববার রাতের অগ্নিকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুনের সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পড়ুন : টানা ১০ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলছে স্কুল-মাদরাসা

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন