সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে চলাচল করবে ৭২১/৭২২ নং মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন। রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সম্প্রসারিত সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সেই লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আগে শুধু ঢাকা থেকে বিরতিহীন দুটি ট্রেনে করে কক্সবাজার যাওয়া যেতো। কমলাপুর থেকে ছাড়ার পর শুধু বিমানববন্দর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। এরপর ট্রেনগুলো চট্টগ্রাম গিয়ে থামে। সেখান থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।
মহানগর এক্সপ্রেস ট্র্বেন সরাসরি যাত্রা শুরু হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ পাঁচ জেলার মানুষ প্রথমবারের মতো ট্রেনে করে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৭২১ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। চট্টগ্রাম থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
অন্যদিকে, ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। চট্টগ্রাম থেকে রাত ৩টায় ছেড়ে ট্রেনটি সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে।
ট্রেনটি কক্সবাজার পর্যন্ত চালুর খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। ইতিমধ্যে ট্রেনটির বর্ধিত চলাচলের টিকিট বিক্রিও শুরু হয়েছে। মুহুর্তেই প্রথম দিনের টিকিট শেষ হয়ে যায়। পরবর্তী দিনগুলোর বেলায়ও একই অবস্থা হয়। ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি রবিবার। ট্রেনটির আসন সংখ্যা সাতশ’র বেশি।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৭২১ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। চট্টগ্রাম থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
অন্যদিকে, ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। চট্টগ্রাম থেকে রাত ৩টায় ছেড়ে ট্রেনটি সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে।
ট্রেনটি কক্সবাজার পর্যন্ত চালু হওয়ায় নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনীর যাত্রীরা সহজে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণ, পর্যটন এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে রেলপথে নতুন এই সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দেখা দিয়েছে। নতুন এই রেলসংযোগ পর্যটন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে একটি রেকে (যেটি যাবে সেটিই ফিরবে) চলাচল করবে বিধায় এটি নির্ধারিত সময়ে চলা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। রবিবার সপ্তাহিক ছুটি বাদে সপ্তাহের ছয়দিন চলাচলকালে ট্রেনটি ঢাকায় দুই ঘন্টা ও কক্সবাজারে তিনঘন্টা সময় পাবে। লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) বদল, ট্রেন পরিস্কারসহ আনুষাঙ্গিক কাজ শেষ করতে হবে ওই সময়ের মধ্যে। চলার পথে বিলম্ব হলে ট্রেনিটির নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
মহানগরের মতো বিজয় এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহের বদলে জামালপুর নাগাদ বর্ধিত করা হলে ঘটে বিপত্তি। ট্রেনটি প্রতিনিয়তই ঘন্টার পর ঘন্টা বিলম্বে চলে। এটিও এক রেকে চট্টগ্রাম-জামালপুর পথে আসা-য়াওয়া করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পৈরতলা এলাকার বাসিন্দা আতিকুর রহমান বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার মতো কোব ট্রেন ছিল না। এখন মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার গেলে আমাদের জন্যে অনেক ভাল হবে৷ পরিবার পরিজন নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন থেকে ট্রেন উঠার পর কক্সবাজারের আগে আর কোন স্টেশনে নামতে হবে না। ‘
রাশেদুল হক নামে আরেকজন জানান, ট্রেনটি কক্সবাজার গেলে আমাদের জন্যে সুবিধা হবে। ট্রেনে ভ্রমন অনেক সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। পরিবার নিয়ে ডিসেম্বরে ট্রেনে কক্সবাজার ভ্রমণের পরিকল্পনা করছি।
রোববার বিকেলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত রুটে যাত্রা উদ্বোধনের প্রাক্কালে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে (কমলাপুর) সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এম.পি গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এম.পি উপস্থিত থাকবেন।
পড়ুন : কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন
সা/


