প্রাণঘাতী সংক্রামক ব্যাধি হাম ও এর উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৯৫ জন রোগী। এই নিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৪০ জনে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়— গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন ১ হাজার ২৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আর এর মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী পাওয়া গেছে ৬৩ জন।
প্রতিবেদনে চলতি বছরের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪ জন রোগী আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৫৪১ জন।
একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ৯৯ হাজার ১২৭ জন রোগী। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ১ লাখ ৯১ হাজার ৯০ জন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মোট প্রাণ হারানো ১ হাজার ২৪০ জনের মধ্যে সরাসরি নিশ্চিত হামের কারণে মারা গেছেন ১০৫ জন। বাকি ১ হাজার ১৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে।
হামের প্রধান প্রধান লক্ষণসমূহ:
স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যানুযায়ী, হামে আক্রান্ত হলে রোগীর দেহে নানা ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি লক্ষণ হলো:
তীব্র জ্বর: হামের শুরুতেই শরীর বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অনেক সময় এই জ্বর ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।
সর্দি ও কাশি: অনবরত হাঁচি দেওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং তীব্র শুকনো কাশি হওয়া হামের প্রাথমিক ও সাধারণ লক্ষণ।
চোখের সমস্যা: আক্রান্ত শিশুর চোখ লাল হয়ে যায়, অনবরত পানি পড়ে এবং আলোতে তাকালে চোখে তীব্র অস্বস্তি বা ব্যথার অনুভূতি হয়।
মুখের ভেতর সাদা দাগ (কপলিক স্পট): সাধারণত জ্বর আসার দুই থেকে তিন দিনের মাথায় মাড়ির পাশে বা গালের ভেতরের চামড়ায় ক্ষুদ্র লবণের দানার মতো সাদাটে দাগ ফুটে ওঠে।
লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ: জ্বর শুরু হওয়ার ৩ থেকে ৫ দিন পর প্রথম কানের পেছন ও মুখে লাল দানাদার ফুসকুড়ি দেখা দেয়। পরবর্তীতে তা ঘাড়, বুক, পিঠ ও হাত-পাসহ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
শারীরিক দুর্বলতা ও অরুচি: পেশিতে ব্যথাসহ শরীর ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খাবারের প্রতি তীব্র অরুচি তৈরি হয়। ক্ষেত্রবিশেষে পাতলা পায়খানা কিংবা বমিও হতে পারে।
পড়ুন : এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, ৩১ অক্টোবর ফল প্রকাশ
সা/


