সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত ‘দাদা ভাই বাহিনী’র সঙ্গে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে জিম্মি দশা থেকে পাঁচজন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ১টি একনলা বন্দুক ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানাধীন সুন্দরবনের আরপাঙ্গাসিয়া নদীর কঞ্চির খাল এলাকায় ‘দাদা ভাই বাহিনী’ মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে রেখেছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও দোবেকী যৌথভাবে ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল কোস্ট গার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালালে এক পর্যায়ে ডাকাতদল জিম্মিদের ফেলে সুন্দরবনের গহীনে পালিয়ে যায়। ফলে অন্ধকার ও ঘন বনের সুযোগ নিয়ে ডাকাতদলের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ডাকাতদলের ফেলে যাওয়া ১টি একনলা বন্দুক, ৬ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৩টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং জিম্মি থাকা পাঁচজন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত জেলেরা হলেন— সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকার রবিউল ইসলাম (৩৫) ও বিল্লাল হোসেন (২৬) এবং খুলনার কয়রা থানার বাসিন্দা আলাউল ইসলাম (৩২), নওশেন মোড়ল (৪১) ও শাহিনুর রহমান (২৮)।
অভিযান প্রসঙ্গে বিসিজিএস সোনার বাংলার নির্বাহী কর্মকর্তা লেঃ ওয়াসিফ কবীর শামিত জানান, জব্দকৃত অস্ত্র ও ফাঁকা কার্তুজের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
পড়ুন : ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু
সা/


