তুরাগে ভেঙে দেওয়া হলো নারী উদ্যোক্তার রেষ্টুরেন্ট, স্বামীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

একটি সাজানো সংসার গড়বে পাশাপাশি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এক অদম্য স্বপ্ন ছিলো নাসরীন জাহান নাজ নামের এক নারীর। হঠাৎ এক নিমিষেই সবকিছুর নির্মম মৃত্যু! অত্যন্ত সু-পরিকল্পিত ভাবে স্বামী তাকে মালয়েশিয়ায় নিজ সন্তানের নিকট পাঠিয়ে তার স্বপ্নের রেস্টুরেন্টটি গুরিয়ে ফেলে। বিশ্বাস যখন পরিণত হয় বিষাদে, তখন একজন নারীর জীবনে নেমে আসে অমাবস্যার ঘোর অন্ধকার।

বিজ্ঞাপন

নাসরীন জাহান নাজ তিন সন্তানের জননী, একজন হার না মানা নারী উদ্যোক্তা। সন্তানদের ভালোবাসায় যে মায়ের বুক সবসময় স্পন্দিত, সেই কন্যা সন্তানকে দেখার কথা বলেই সাবেক স্বামী আবু সাঈদ মোহাম্মদ হায়দার তাকে সুকৌশলে পাঠিয়েছিলেন মালয়েশিয়ায়। কিন্তু নাসরীন ঘুণাক্ষরেও জানতেন না, সেখানে তার জন্য অপেক্ষা করছে এক ভয়ংকর প্রতারণার ফাঁদ। প্রবাসে বসেই হাতে পেলেন তিনি তালাকের নোটিশ! দেশে ফিরে দেখলেন, নিজের ঘরের দরজাও তার জন্য চিরতরে বন্ধ, কেড়ে নেওয়া হয়েছে গাড়ি ও পাসপোর্ট।

কিন্তু এখানেই শেষ নয় এই নিষ্ঠুরতার। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য, সন্তানদের মুখে হাসি ফোঁটাতে তিনি তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন একটি রেস্টুরেন্ট। দিয়াবাড়িতে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়া সেই সাজানো স্বপ্ন চোখের পলকেই ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। কোনো নোটিশ নয়, কোনো কথা নয়— স্বামীর এক ইশারায় ধুলোয় মিশে গেল একজন নারীর বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বনটুকুও। উন্মত্ত আক্রোশে রেস্টুরেন্টের ইট-বালু পর্যন্ত বিক্রি করে দেওয়া হলো।

আজ তিনি শুধুই এক নিঃস্ব নারী নন, তিনি এক আতঙ্কিত মা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রকাশ্যে তাকে ও তার রেস্টুরেন্টের কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কর্মচারীদের টুকরো টুকরো করে কেটে কুকুর দিয়ে খাওয়ানোর মতো পৈশাচিক হুমকিও দেওয়া হয়েছে! তাকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিতে তার বড় ছেলেকে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করানো হয়। রাস্তায় বের হলে তাকে অনুসরণ করা হচ্ছে, বাইক নিয়ে তাড়া করা হচ্ছে। প্রতিটা মুহূর্ত তার কাটছে শুধুই মৃত্যুর প্রহর গুনে।
​
তবে এত কিছুর পরও তিনি শুধু কেঁদেই হার মানতে রাজি নন! তিল তিল করে গড়া স্বপ্নের রেস্টুরেন্ট ধ্বংস, মালামাল লুট আর দিনের পর দিন চরম মানসিক ও আর্থিক নির্যাতনের বিচার চেয়ে তিনি আজ সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতির দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী নাসরীন। তিনি বলেন এই ৫ কোটি টাকা শুধু কোনো আর্থিক অঙ্ক নয়, এটি সবকিছু হারানো একজন লড়াকু নারীর ঘুরে দাঁড়ানোর বুকফাটা আর্তনাদ। আর কোনো উপায় না পেয়ে আজ সংবাদ সম্মেলনে সন্তানকে সাথে নিয়ে অঝোরে কেঁদেছেন নাসরিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের কাছে তার আকুল আবেদন— “আমার জীবনের নিরাপত্তা দিন, আমাকে বাঁচান”!
​একজন নারী হিসেবে, একজন মা হিসেবে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার, দু’মুঠো ভাত খাওয়ার অধিকারটুকুও কি তার নেই? এই নির্মমতার কি কোনো বিচার হবে না? নাকি ক্ষমতার দম্ভে আর অন্ধ আক্রোশে এভাবেই চিরকাল হারিয়ে যাবে একজন মায়ের স্বপ্ন, একজন নারীর অধিকার।

সংবাদ সম্মেলনে নাসরিন জাহান নাজ আরো বলেন, আমি একজন নারী উদ্যোক্তা, চরম আতঙ্ক নিয়ে আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি, আমি একজন নারী হিসেবে জীবনের নিরাপত্তা চাই সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা চাই, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমার স্বামী যে ভাবে আমার সাথে প্রতারণা করেছে, আমার রেস্টুরেন্ট ভেঙ্গে আমার ব্যবসার ক্ষতি করেছে। আমি আমার মায়ের টাকায় রেস্টুরেন্ট শুরু করেছি। স্বামী হওয়া সত্ত্বেও ওনার কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে ২ বছরের চুক্তি করে আমি রেস্টুরেন্ট ভাড়া নেই। আমার স্বামী আমার সন্তানকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে, তাকে তার বাবা বাসায় উঠতে দেয় না, আমার মেয়ে একজন টেনিস খেলোয়াড়। সন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় যাবো।

স্বামীর বিরুদ্ধে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রেস্টুরেন্ট ভেঙে ফেলা, পাসপোর্ট ও গাড়ি আটকে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ এনেছেন নাসরীন জাহান নাজ নামের এই নারী উদ্যোক্তা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর, ২০২৬) উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন এবং নিজের ও সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে নাসরীন জানান, গত ১১ই সেপ্টেম্বর তার প্রাক্তন স্বামী আবু সাঈদ মোহাম্মদ হায়দার (৫৩) সুকৌশলে তাকে ও তার মেয়েকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেন এবং সেখানে থাকা অবস্থাতেই তাকে তালাকের নোটিশ পাঠান। দেশে ফেরার পর তাদের বাসায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং তার পাসপোর্ট ও গাড়ি আটকে রাখা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। ছেলে মেয়েদের নিয়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য দিয়াবাড়িতে (তুরাগ থানাধীন ১৭ নম্বর সেক্টরের এভিনিউ ০৬) একটি রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করতেন এই নারী উদ্যোক্তা। তিনি জানান, রেস্টুরেন্টের ৬ কাঠা জমি তার স্বামীর এবং বাকি ৩ কাঠা তার নিজের কেনা ছিল। স্বামীর কাছ থেকে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে জমি ভাড়া নিয়ে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে তিনি এই ব্যবসা দাঁড় করিয়েছিলেন। কিন্তু পূর্ব আক্রোশের জেরে কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই আবু সাঈদ মোহাম্মদ হায়দার তার তিল তিল করে গড়া রেস্টুরেন্টটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন নাসরীন। শুধু তাই নয়, রেস্টুরেন্টের নিরীহ কর্মচারীদেরও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

​চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে নিরুপায় হয়ে তিনি গত ১৫ অক্টোবর তুরাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১০৬১) দায়ের করেছেন।

​চরম আতঙ্ক ও হতাশা প্রকাশ করে নাসরীন জাহান বলেন, “আমি আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রতিটা মুহূর্ত কাটছে মৃত্যুভয়ে। একজন নারী হিসেবে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকা ও ব্যবসা করে দু’মুঠো ভাত খাওয়ার অধিকারটুকুও কি আমি পাবো না?” তিনি রেস্টুরেন্ট ভাঙচুর ও তার ওপর চলা জুলুমের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রের কাছে আকুল আবেদন জানান।

পড়ুন : ডেঙ্গুতে একদিনে রেকর্ড ১১ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২০৭১

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন