মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভা এলাকাকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও যান চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রধান সড়কগুলোর ডিভাইডারের পাশ থেকে জমে থাকা বালি, ময়লা ও আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, সড়কে ধুলাবালির পরিমাণ কমানো এবং স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পৌরসভার উদ্যোগে এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) গাংনী পৌরসভা এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন গাংনী পৌরসভার প্রশাসক মাসুদুর রহমান। তাঁর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পৌর এলাকার বিভিন্ন প্রধান সড়কের ডিভাইডারের দুই পাশে জমে থাকা বালি ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজ শুরু হয়।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন সড়কের ডিভাইডারের পাশে বালি, ধুলাবালি ও নানা ধরনের ময়লা-আবর্জনা জমে থাকে। যানবাহনের চলাচল, বাতাস এবং বৃষ্টির পানির সঙ্গে এসব ময়লা সড়কের পাশে জমা হয়। এতে একদিকে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়, অন্যদিকে যানবাহন চলাচলের সময় ধুলাবালি উড়ে পথচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগের কারণ হতে পারে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
কার্যক্রমের আওতায় প্রধান সড়কের ডিভাইডারের পাশ থেকে জমে থাকা বালি, ধুলাবালি ও অন্যান্য আবর্জনা সংগ্রহ করে অপসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সড়কের পাশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে এ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পৌর প্রশাসক মাসুদুর রহমানের উদ্যোগে শুরু হওয়া এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে শহরের রাস্তাঘাটের পরিবেশ উন্নত হবে বলে আশা করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কগুলোর পাশে জমে থাকা বালি অপসারণ করা হলে যানবাহন চলাচলের সময় ধুলাবালির বিস্তার কমাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন সড়ক শহরের সামগ্রিক পরিবেশ ও নাগরিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
গাংনী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য গাংনী গড়ার লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু সড়ক পরিষ্কার করেই নয়, পৌর এলাকার সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতাও জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শহরের প্রধান সড়কগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা হলে পথচারী ও যানবাহন চালকদের চলাচলে স্বস্তি বাড়বে। তবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলাও প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পৌরসভার এ উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে গাংনী শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নাগরিকদের জন্য আরও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা সহজ হবে। এ জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য গাংনী গড়ে তোলার প্রত্যয়ে পৌরসভার এ অভিযান অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
পড়ুন:গাইবান্ধায় সমতা ও ডিজিটাল সুরক্ষায় স্থানীয় সরকারের সঙ্গে যুব সংলাপ
ইমি/


