উখিয়ার ইনানীতে ৩০ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ২৫০ মিটার এলাকায় সতর্কতা

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপের গর্ত থেকে বের হওয়া প্রাকৃতিক গ্যাসে জ্বলে ওঠা আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে করা সম্ভব হয়নি। গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করতে চাপ প্রয়োগ করা হলে ভূগর্ভের অন্য কোনো দুর্বল স্তর দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে এসে ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে আগুনের ভয়াবহতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ২০০ মিটার দূরে থাকতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ জানিয়েছেন উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের দলপ্রধান এস. এম. নাফিফুন আরহাম এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভূগর্ভের গ্যাসস্তরের ওপরের অংশের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর গ্যাস বেরিয়ে আসার পথ তৈরি হয়েছে। নলকূপের বোরিং দিয়ে উচ্চচাপের গ্যাস ভূপৃষ্ঠে উঠে আসে। ভূগর্ভের মাইক্রো ফ্র্যাকচার, ফ্র্যাকচার বা ফল্টের মতো দুর্বল স্তর দিয়ে গ্যাস চলাচলের পথ তৈরি হতে পারে। এ কারণে গ্যাসটি ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগুনের রং ও ধোঁয়া পর্যবেক্ষণ করে গ্যাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উচ্চতর হাইড্রোকার্বন থাকার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান এস. এম. নাফিফুন আরহাম। তবে গ্যাসের প্রকৃত উপাদান,উৎস, সম্ভাব্য মজুত ও রাসায়নিক সম্পর্কে নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে বাপেক্সের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করতে হবে।

তিনি আরও জানান, বুধবার সকালে আশপাশের উপযুক্ত স্থান থেকে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে। নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়া গেলে গ্যাসের উপাদান ও প্রকৃতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তবে এ পর্যায়ে গ্যাসের মজুতের পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন।

নিরাপত্তার বিষয়ে বাপেক্সের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করতে চাপ প্রয়োগ করা হলে তা ভূগর্ভের অন্য কোনো দুর্বল পথ দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে পারে। এতে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া এবং ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা জরুরি।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার স্থানীয় জনসাধারণকে আগুনের ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ২০০ মিটার দূরে অবস্থান করার অনুরোধ জানিয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ভিড় না করতে এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে উখিয়ার ইনানী এলাকায় আবদুল্লাহর বসতবাড়ির আঙিনায় পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্ত থেকে অনবরত প্রাকৃতিক গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে। একপর্যায়ে বৈদ্যুতিক তার থেকে গ্যাসে আগুন ধরে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। তবে গ্যাস নির্গমন অব্যাহত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। গ্যাসের প্রকৃতি, উৎস এবং সম্ভাব্য মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বাপেক্সের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পড়ুন:বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন