নির্মাতা জাফর পানাহির কারাদণ্ড ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ

ইরানের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহিকে নতুন এক মামলায় পাঁচ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন তেহরানের একটি আদালত। কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপামজয়ী ও অস্কার মনোনীত এই পরিচালকের অনুপস্থিতিতে এবং তাঁকে কোনো নোটিশ না দিয়েই রায় ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন সাজাসহ তাঁর মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ দাঁড়িয়েছে ছয় বছর এক মাস।

বিজ্ঞাপন

ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাদণ্ডের পাশাপাশি পানাহির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া দুই বছরের জন্য তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

পানাহির আইনজীবী মোস্তফা নিলি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে পরিচালকের ব্যাংক হিসাবগুলো হঠাৎ জব্দ করা হয়। এর কারণ জানতে তাঁরা প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গেলে নতুন মামলার রায় সম্পর্কে জানতে পারেন।

আইনজীবীর দাবি, মামলার নথিতে পানাহিকে ইরানের বাইরে অবস্থানরত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ, ৯৮তম অস্কার অনুষ্ঠানের পরপরই পানাহি নিজ দেশে ফিরে আসেন।

দেশে ফেরার পরও কীভাবে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রায়ের আগে পরিচালককে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। ফলে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া ও রায় ঘোষণার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে জাফর পানাহিকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের জুনে আদালত সেই সাজা বহাল রাখেন।

নতুন মামলায় পাঁচ বছর এক মাসের কারাদণ্ড যুক্ত হওয়ায় তাঁর মোট সাজা দাঁড়িয়েছে ছয় বছর এক মাস। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পানাহির বিরুদ্ধে নেওয়া ধারাবাহিক আইনি পদক্ষেপ তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণ ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

জাফর পানাহি ইরানের অন্যতম আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত চলচ্চিত্র নির্মাতা। দীর্ঘ দুই দশক ধরে দেশটির কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন। তাঁর কাজের বড় একটি অংশে ইরানের সমাজ, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সাধারণ মানুষের জীবন উঠে এসেছে।

পানাহির চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে নিয়মিত প্রশংসা পেয়েছে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চলচ্চিত্র নির্মাণ চালিয়ে যাওয়ার কারণে তিনি বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন।

২০২৫ সালে পানাহি পরিচালিত ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ কান চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণপাম বা ‘পাম দ’ওর’ অর্জন করে। চলচ্চিত্রটি অস্কারে ফ্রান্সের হয়ে চূড়ান্ত মনোনয়নও পায়। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে তাঁর অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়।

তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিপরীতে নিজ দেশে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সর্বশেষ মামলায় তাঁর অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে।

পানাহির বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর পরবর্তী অগ্রগতি কী হবে, তা এখনো জানা যায়নি। তবে নতুন রায়ের ফলে তাঁর কারাদণ্ডের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ভ্রমণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পড়ুন:সাইবার পুলিশের দ্বারস্থ বিজয়-রাশমিকা

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন