ভিকির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ক্যাটরিনা

দিনভর টানা শুটিংয়ের ব্যস্ততা শেষে বাড়ি ফিরেও ক্লান্তি যেন ছুঁতে পারে না বলিউড অভিনেতা ভিকি কৌশলকে। ঘরে ফিরেই তিনি মনোযোগ দেন স্ত্রী ক্যাটরিনা কাইফ ও ছেলে বিহানের প্রতি। স্বামীর এমন দায়িত্বশীল আচরণে মুগ্ধ ক্যাটরিনা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভিকির বাবা ও স্বামী হিসেবে নতুন জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন এই অভিনেত্রী। একই সঙ্গে সন্তান জন্মের পর দম্পতির ব্যক্তিগত ও রোমান্টিক সময় কীভাবে কমে গেছে, সেটিও অকপটে জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

২০২১ সালে রাজকীয় আয়োজনে বিয়ে করেন ভিকি কৌশল ও ক্যাটরিনা কাইফ। এরপর গত বছর তাঁদের পরিবারে আসে পুত্রসন্তান বিহান। প্রথমবার মা-বাবা হওয়ার পর থেকে জীবনের নতুন অধ্যায়ের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন এই তারকা দম্পতি। কাজের ব্যস্ততা সামলে সন্তানকে বড় করে তোলা এবং সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই এখন তাঁদের দিনের বড় অংশ কাটছে।

ক্যাটরিনার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগার বিষয় হলো, ভিকি কাজের চাপের মধ্যেও পরিবারের জন্য সময় বের করে নেন। দিনে ১৪, ১৬ কিংবা ১৮ ঘণ্টা শুটিং করার পরও বাড়ি ফিরে সন্তানের যত্ন নিতে তাঁর মধ্যে নতুন উদ্যম দেখা যায়।

ক্যাটরিনার ভাষ্য অনুযায়ী, সারাদিনের পরিশ্রমের পরও ভিকি ঘরে ফিরেই ছেলে বিহান ও সংসারের প্রতি পুরো মনোযোগ দেন। ক্লান্তিকে পাশে সরিয়ে রেখে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর এই মানসিকতাকে ভিকির বিশেষ গুণ বলে মনে করেন তিনি।

তারকা দম্পতির জীবনে কাজের ব্যস্ততা নতুন কিছু নয়। তবে সন্তান জন্মের পর দায়িত্বের পরিধি বেড়েছে অনেকটাই। একদিকে পেশাগত কাজ, অন্যদিকে সন্তানকে সময় দেওয়া—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরা। এ ক্ষেত্রে ভিকির সহযোগিতা ক্যাটরিনার কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সন্তান আসার পর জীবনে অনেক আনন্দ যোগ হলেও দাম্পত্য জীবনের পুরোনো অভ্যাসগুলোতে পরিবর্তন এসেছে। আগে সুযোগ পেলেই দুজনে হঠাৎ রেস্তোরাঁয় খেতে যেতেন, সিনেমা দেখতেন কিংবা নিজেদের মতো করে সময় কাটাতেন। এখন এসব পরিকল্পনা করা আগের তুলনায় অনেক কঠিন।

সন্তানের দেখভাল, দৈনন্দিন দায়িত্ব এবং কাজের সময়সূচির কারণে নিজেদের জন্য আলাদা সময় বের করা সহজ হচ্ছে না। ফলে দুজনের একান্ত রোমান্টিক মুহূর্তও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ক্যাটরিনা।

তবে বিষয়টি নিয়ে হতাশ নন এই অভিনেত্রী। বরং মাতৃত্ব ও অভিভাবকত্বের নতুন অভিজ্ঞতাকে জীবনের স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন তিনি। সন্তানকে ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন দায়িত্ব উপভোগ করার পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাবে বলেও আশাবাদী এই দম্পতি।

ক্যাটরিনা জানিয়েছেন, ভিকি তাঁকে সব সময় মানসিকভাবে সাহস জোগান। নিজেদের একান্ত সময় কমে যাওয়ায় কখনো চাপ তৈরি হলেও ভিকি তাঁকে মনে করিয়ে দেন, এটি জীবনের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়। সময়ের সঙ্গে সন্তান বড় হবে, দায়িত্বের ধরন বদলাবে এবং দুজনের নিজেদের জন্য সময় বের করাও সহজ হবে।

ভিকির এই ইতিবাচক মনোভাব ক্যাটরিনাকে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করছে। তাঁর কথায়, প্রথমবার মা-বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতায় দুজনকেই অনেক কিছু শিখতে হচ্ছে। পরস্পরের সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমেই তাঁরা নতুন জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো সামলাচ্ছেন।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই সতর্ক এই দম্পতি তাঁদের সন্তানকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখতে চান। তাই বিহানকে নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করলেও অভিভাবক হিসেবে নিজেদের অভিজ্ঞতার কিছু দিক ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন তাঁরা।

ক্যাটরিনাকে সর্বশেষ ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মেরি ক্রিসমাস’ ছবিতে দেখা গিয়েছিল। এরপর নতুন কোনো সিনেমায় তাঁকে পর্দায় দেখা যায়নি। তবে অভিনয়ে ফেরার বিষয়ে আপাতত তাড়াহুড়ো করতে চান না তিনি।

বর্তমানে নিজের ব্যবসায়িক উদ্যোগ, পরিবার এবং ব্যক্তিগত জীবনে সময় দেওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন এই অভিনেত্রী। মাতৃত্বের নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোও তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।

তবে অভিনয়ে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে ভক্তদের জন্য একটি চমকের ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্যাটরিনা। এবার পর্দায় ফিরলে ইতিবাচক বা প্রচলিত নায়িকার চরিত্রের পরিবর্তে খলনায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করতে আগ্রহী তিনি। নতুন ধরনের চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করার এই ইচ্ছা তাঁর ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, ক্যাটরিনা ও ভিকির জীবনে এখন পরিবারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে। কাজের ব্যস্ততা, সন্তানের দায়িত্ব এবং নিজেদের সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। আর বাবা হিসেবে ভিকির দায়িত্বশীলতা যে ক্যাটরিনাকে নতুন করে মুগ্ধ করছে, তা তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যেই স্পষ্ট।

পড়ুন:সাইবার পুলিশের দ্বারস্থ বিজয়-রাশমিকা

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন