কলমাকান্দায় দুপক্ষের সংঘর্ষ: বুকে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত, আহত ৩

রাতের আঁধার তখন সবে ঘনিয়ে এসেছে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শান্ত গ্রাম খাতে সালেঙ্গায়। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে গ্রামের মানুষ যখন বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই পূর্বশত্রুতার জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিষাদের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে দুপক্ষের সংঘর্ষে বুকের ভেতর টেঁটার আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন মো. সাদ্দাম হোসেন (৩০) নামে এক যুবক। এ ঘটনায় রক্তাক্ত ও আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

নিহত সাদ্দাম হোসেন পোগলা ইউনিয়নের খাতে সালেঙ্গা গ্রামেরই বাসিন্দা এবং আবদুল হাসিমের ছেলে। এই তরুণের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে এখন চলছে শোকের মাতম।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও পূর্ববিরোধের জের ধরে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে খাতে সালেঙ্গা গ্রামে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা একপর্যায়ে ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের ছোড়া ধারালো টেঁটা সরাসরি সাদ্দাম হোসেনের বুকের ভেতর বিদ্ধ হয়। এ সময় উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হন।

আহত ব্যক্তিরা হলেন- একই এলাকার হারিস মিয়ার ছেলে মো. দুরবীন মিয়া (৩৬), শফিকুলের ছেলে মো. আজহার (২২) এবং কাশেমের ছেলে হাদিস (৩০)।

সংঘর্ষের পর স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় সাদ্দাম হোসেনসহ আহতদের উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ততক্ষণে নিভে গেছে সাদ্দামের জীবনপ্রদীপ। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. এম এম এস মাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাদ্দাম হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানান, নিহতের পক্ষের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। নিহতের পক্ষ এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় তাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয় এবং সেই জের ধরেই সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ওসি মো. সোহেল রানা আরও জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল খাতে সালেঙ্গা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সরেজমিনে তথ্য যাচাই-বাছাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : পাবনার মালঞ্চিতে বজ্রপাতে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন