তাহসিফের মৃত্যুতে বাবার মামলা, গ্রেপ্তার দেখানো হলো বন্ধু দীপকে

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর বাবা এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে রাজধানীর উত্তরখান থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় তাহসিফের ব্যবসায়িক অংশীদার ও বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) মধ্যরাতে দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আজ তাঁকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৯ অক্টোবর রাতে মোহাম্মদপুর থেকে দীপকে আটক করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দীপকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিবিআই। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তারা ওই এলাকায় যাওয়ার পর পুলিশের ইউনিফর্ম পরা দু’জনের ধাওয়ায় তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং তিনি নিজেও ভয়ে পালিয়ে যান। তবে দীপের কথায় একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। তারা সেখানে কেন গিয়েছিলেন এবং রাতের চলাফেরা নিয়ে তিনি একেক সময় একেক রকম তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া ঘটনার রাতে অন্য কেউ বা কোনো নারী উপস্থিত ছিলেন কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি। পিবিআই জানিয়েছে, তাহসিফের ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের কললিস্ট ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে দীপের ডাকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। সিসিটিভি ফুটেজেও তাদের একত্রে দেখা গিয়েছিল। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তাকে দাফন করা হয়। নিহত তাহসিফ সাঁতার জানতেন এবং পাইলট প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে তার সাঁতারের কোর্স করা ছিল বলে জানান তার পরিবার। ফলে ‘পুলিশের ধাওয়ায় ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুর’ দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তিনি একে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

দীপের দাবি ও ঘটনার বিবরণ

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তাঁরা টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় কথা বলার সময় পুলিশের পোশাক পরা দু’জনসহ কয়েকজন তাঁদের ধাওয়া করেন। ধাওয়ার মুখে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন এবং দীপ নিজে বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে আত্মরক্ষা করেন। তবে এসব তথ্যের সত্যতা ও অসংগতি খতিয়ে দেখতে নৌ পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

পড়ুন : তাহসিফ মৃত্যু রহস্য: দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে পিবিআই

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন