কলমাকান্দায় একই গ্রামে জোড়া অভিযান, ইয়াবা-রুপিসহ আটক ২

হেমন্তের ভোরের কুয়াশা তখনো পুরোপুরি কাটেনি। সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষ যখন কেবল ঘুম ভেঙে প্রতিদিনের স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই ভোরের সেই সুনসান নীরবতা ভেঙে অভিযানে নামে পুলিশ। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের গারামপাড়া এলাকায় শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে মাত্র দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে পরিচালিত দুটি পৃথক বিশেষ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে চারশো পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং চার লাখ তিন হাজার ভারতীয় রুপি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক তরুণ ও এক মধ্যবয়সী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে কলমাকান্দা থানা-পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে পুলিশের নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালিত হয়। কলমাকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই-নিঃ) আবু তাহের এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই-নিঃ) মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ভোর থেকেই এলাকায় অবস্থান নেয়।

প্রথম অভিযানটি চালানো হয় আজ ভোর ৬টার দিকে গারামপাড়া গ্রামে। গোপন সংবাদের সূত্র ধরে পুলিশ ওই গ্রামের মো. হেলাল উদ্দিনের ছেলে রাশেদুজ্জামান ওরফে নাঈমের (২০) বসতঘরে তল্লাশি চালায়। উঠতি বয়সী তরুণের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় সর্বনাশা মাদক হিসেবে পরিচিত চারশো পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। হাতেনাতে মাদক উদ্ধারের পরপরই নাঈমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রথম অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই একই ইউনিয়নের গারামপাড়া (বেনকোণা) এলাকায় দ্বিতীয় অভিযানে নামে পুলিশের ওই দলটি। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই এলাকার মৃত আব্বাস আলীর ছেলে দুলাল মিয়ার (৪৫) বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে দুলাল মিয়ার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে চার লাখ তিন হাজার ভারতীয় রুপি উদ্ধার করা হয়। অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা নিজ হেফাজতে রাখার দায়ে দুলাল মিয়াকে তাৎক্ষণিক আটক করে পুলিশ এবং উদ্ধারকৃত রুপিগুলো জব্দ করা হয়।

একই সকালে পাশাপাশি এলাকায় পুলিশের জোড়া অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সমাজের সচেতন মহল মনে করছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় মাদক ও অবৈধ মুদ্রার চোরাচালান রোধে পুলিশের এ ধরনের তৎপরতা এলাকার তরুণ সমাজকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সার্বিক বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও ভারতীয় রুপি পুলিশি হেফাজতে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার রাশেদুজ্জামান ও আটক দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে পৃথক মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের এমন বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

পড়ুন : মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে মিরপুরে ফের পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন