কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে ফের সেকুল সভাপতি, সেলিম সম্পাদক

মফস্বল সাংবাদিকতার ঐতিহ্যবাহী প্রাঙ্গণ নেত্রকোনার কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে আবারও পুরনো ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের ওপরই আস্থা রাখলেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। পারস্পরিক সৌহার্দ্য, পেশাদারিত্ব এবং ঐক্যের অনন্য নজির স্থাপন করে আগামী দুই বছরের জন্য প্রেসক্লাবের সভাপতি পদে সেকুল ইসলাম খান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল হাই সেলিম সর্বসম্মতিক্রমে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় কেন্দুয়া প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের অকুণ্ঠ সমর্থনে তাদের এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। প্রথাগত নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে গিয়ে সমঝোতা ও আস্থার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নেতৃত্ব স্থানীয় সাংবাদিক মহলে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

সকাল থেকেই প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর আমেজ। সভার প্রথম অধিবেশনে বিগত দিনের কর্মকাণ্ডের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সেলিম। ক্লাবের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করা এবং পেশাগত মানোন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সদস্যরা উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। প্রথম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় অধিবেশন।

প্রেসক্লাব সভাপতি সেকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সেলিমের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় দ্বিতীয় অধিবেশনটি পরিণত হয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের সৌহার্দ্যপূর্ণ মিলনমেলায়। এই অধিবেশনেই সর্বসম্মতিক্রমে আগামী দুই বছরের জন্য পুনরায় সেকুল ইসলাম খানকে সভাপতি ও আব্দুল হাই সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের আজীবন দাতা সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম হিলালী। গণমাধ্যমকর্মীদের সমাজের দর্পণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং তাদের সার্বিক উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সমাজকে সঠিক পথ দেখাতে সাংবাদিকদের নির্ভয়ে, নিরপেক্ষভাবে এবং দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সংসদ সদস্য আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “সব সময় আপনাদের পাশে আছি, থাকব ইনশাআল্লাহ। আমার দরজা আপনাদের জন্য সব সময় খোলা।”

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা সানজিদা চৌধুরী, কেন্দুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা এবং কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া, সিনিয়র সহসভাপতি মো. হাবিবুর রহমান মোসলেম, সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মজনু, পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলার এবং সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান। বক্তারা নবনির্বাচিত নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে স্বাধীন সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই।

দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় প্রবীণ ও নবীন সাংবাদিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আলমগীর চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী চৌধুরী কাজল ও আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং সিনিয়র সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক হারেছ ফকির, বিজয় রজক, লাভলু পাল চৌধুরী, আবু বকর সিদ্দিক, শেখ কামাল, কিশোর কুমার শর্মা, মজিবুর রহমান, হুমায়ুন কবির, মাজহারুল ইসলাম উজ্জ্বল, রুকন উদ্দিন, কোহিনূর আলম ও সোহেল আকন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পুনর্নির্বাচিত সভাপতি সেকুল ইসলাম খান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সেলিম উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সহকর্মীদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস তাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী দিনে কেন্দুয়া প্রেসক্লাবকে আধুনিক, ঐক্যবদ্ধ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে নিতে তারা সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টিকটকে কমেন্ট নিয়ে দুই তরুণের হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন