এইচএসসি’র পুনঃপরীক্ষা: ফরম পূরণ ৩ নভেম্বর, পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত সাপ্লিমেন্টারি (পুনঃপরীক্ষা) আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফল প্রকাশের পর ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর থেকে ফরম পূরণ শুরু হয়ে তা এক সপ্তাহ চলবে এবং আগামী ২ ডিসেম্বর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

ফরম পূরণ ও পরীক্ষার মূল সময়সূচি

পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন: ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ ২৭ নভেম্বর (সম্ভাব্য)। সাপ্লিমেন্টারি ফরম পূরণ আগামী ৩ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে এক সপ্তাহ চলবে। পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলি ও সুযোগ

অংশগ্রহণের যোগ্যতা: শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। তবে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন তিনটি এবং সর্বোচ্চ চারটি বিষয়ে এই পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন (বিষয় ও পত্রসংক্রান্ত বিস্তারিত নিয়ম চূড়ান্ত নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হবে)।

কম খরচে ফি: শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে পরীক্ষার ফি সহনীয় পর্যায়ে রাখা হচ্ছে। কেন্দ্র পরিচালনায় ন্যূনতম খরচের বিষয়টি মাথায় রেখে ফি নির্ধারণ করা হবে এবং মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত কোনো চার্জ নেওয়া হবে না।

কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা: পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম হওয়ায় উপজেলা পর্যায়ে একটি করে কেন্দ্র স্থাপন করা হতে পারে। দেশের প্রায় ৫০০টি উপজেলায় কেন্দ্র করা হলে আসনবিন্যাস সহজ হবে। তবে ইংরেজি ও আইসিটিতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় (বিশেষ করে অকৃতকার্যদের প্রায় ৮০ শতাংশই এই দুই বিষয়ে) এসব বিষয়ের কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শিক্ষাবিদ ও অভিভাবক সংগঠনের মতামত

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী সময়মতো এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে তিনি মত প্রকাশ করেছেন যে, পুনঃপরীক্ষার পরও যারা উত্তীর্ণ হতে পারবে না, তাদের জন্য কারিগরি শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা (যেমন: চীনা ও জাপানি ভাষা) এবং কেয়ারগিভিংয়ের মতো স্বল্পমেয়াদি কর্মমুখী কোর্সের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা ঝরে না পড়ে। পাশাপাশি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কাটাতে শিক্ষক, অভিভাবক ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অভিভাবক ঐক্য ফোরাম সংগঠনের সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলু ও সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মিয়া এক যৌথ বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন রক্ষার্থে এক মাসের মধ্যে এই পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার দাবি জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন।

খুব শীঘ্রই পরীক্ষার রুটিন ও ফরম পূরণের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

পড়ুন : আজ থেকে নতুন পে-স্কেলে বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন