আইসিইউতে ‘রোকযানা’ খ্যাত শিল্পী সাহেদ আলী

রোকযানা’ খ্যাত সংগীতশিল্পী শেখ সাহেদ আলী গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতায় ভুগছেন তিনি। সম্প্রতি স্ট্রোকের পাশাপাশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেও পারছেন না এই সংগীতশিল্পী। তাঁর অসুস্থতার খবর নিশ্চিত করেছেন বন্ধু এরশাদুল হক।

বিজ্ঞাপন

এরশাদুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন শেখ সাহেদ। গত চার বছর ধরে নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে তাঁকে। এর মধ্যে গত ২৪ অক্টোবর শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ট্রোক করেন তিনি। এর ফলে কথা বলার স্বাভাবিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন এই শিল্পী। বর্তমানে মুখে কথা বলতে না পারলেও ইশারার মাধ্যমে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করছেন।

এর মধ্যেই পরীক্ষায় তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। কিডনির জটিলতা, স্ট্রোক ও ডেঙ্গু—সব মিলিয়ে শারীরিক পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে।

বন্ধু এরশাদুল হকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ৩১ অক্টোবর শেখ সাহেদকে একটি হাসপাতালের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় তাঁকে।

বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এই সংগীতশিল্পী। তাঁর একাধিক শারীরিক জটিলতা থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রমও বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে তাঁর চিকিৎসার সর্বশেষ অগ্রগতি বা সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

শেখ সাহেদ আলী সংগীতজগতে ‘রোকযানা’ সাহেদ নামেই বেশি পরিচিত। তিনি ‘গাছ’ ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা। নব্বইয়ের দশক থেকে সংগীতচর্চা করে আসছেন এই শিল্পী। নিজস্ব গায়কী ও ব্যতিক্রমী গান দিয়ে শ্রোতাদের মধ্যে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি।

তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘রোকযানা’, ‘উপলব্ধি’, ‘ক্লাসরুমে বসে শেখা’, ‘উটপাখির ডিম’, ‘খোলা চুল’ ও ‘প্রেম আসবেই’। এসব গানের মাধ্যমে নব্বইয়ের দশক ও পরবর্তী সময়ে তরুণ শ্রোতাদের কাছে পরিচিতি পান তিনি।

১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘প্রভু’। এরপর একে একে আরও পাঁচটি অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন তিনি। দীর্ঘ সংগীতজীবনে নিজের সৃষ্টিশীলতা ও স্বতন্ত্র সংগীতধারার মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে জায়গা করে নিয়েছেন এই শিল্পী।

অসুস্থতার কারণে শেখ সাহেদের নতুন গান প্রকাশের পরিকল্পনাও আপাতত থমকে রয়েছে। জানা গেছে, দীর্ঘ ১১ বছরে তৈরি করা তাঁর ২৪টি গান এখনো প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে গানগুলো নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। সংগীতপ্রেমীদের কাছে নতুন গানগুলো পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও অসুস্থতার কারণে সেই আয়োজন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

একজন শিল্পীর জন্য দীর্ঘদিনের সৃজনশীল কাজ শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ না পাওয়া নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক। তবে তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছেন সংগীতাঙ্গনের সহকর্মী ও ভক্তরা।

শেখ সাহেদের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য শ্রোতাকে গান উপহার দেওয়া এই শিল্পী দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও সংগীতে ফিরবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁর ভক্তদের।

পড়ুন:৬ ও ৭ নভেম্বর শিল্পকলায় মঞ্চস্থ হবে ‘ইনভিজিবল স্টোরিজ’

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন