সম্প্রতী এইচএসসি পরিক্ষার ফলাফলে সারা দেশ ব্যাপী নতুন পরিবর্তন এসেছে। বিগত দিনের প্রশ্নবৃদ্ধ পাশের চেয়ে প্রকৃত পাশের সংখ্যার কম অর্জনে শ্রেষ্ঠত্ব পরিচয় পাচ্ছে। জাতিয় বিশ^বিদ্যালয় অধীনস্থ কলেজের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে রাজশাহীর সরদহ সরকারি মহাবিদ্যালয় শ্রেষ্ঠ বলে মনে করছেন কলেজ কতৃপক্ষ।
সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া আকবড়িয়া সরকারী কলেজ অন্যতম হলেও এবারে তার ব্যাতিক্রম ফলাফল অর্জন করেছে সরদহ সরকারি মহাবিদ্যালয়। চারঘাট পৌরসভার মধ্যে এই কলেজটি ১৯৭২ সালে স্থাপিত হয়। তবে জাতিয়করণ হয় ২০১৮ সালে।
এবারের এইচএসসি পরিক্ষায় আকবড়িয়া সরকারি কলেজ থেকে ৯০৬ জন পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করে। যার মধ্যে ১৩টি (এ+) অর্জন করেছে এবং পাশের হার ৬০শতাশং। অপরদিকে সরদহ সরকারি কলেজ থেকে ৩৮৩ জন এইচএসসি পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করে ১৬টি (এ+) পেয়েছে। যার পাশের হার ৬৮.১৫শতাংশ। এই ফলাফলের তথ্যমতে দেশের মধ্যে উপজেলায় সেরা কলেজ সরদহ সরকারি মহাবিদ্যালয়।
কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীর পিতা তুফান আলী বলেন, তিনি পেশায় একজন রাজ মিস্ত্রী। তার জমজ দুই মেয়ে একই সাথে এবারের এইচএসসি পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করে এ+ অর্জন করেছে। সরদহ সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় এই কলেজের শিক্ষকরা বিভিন্ন ভাবে তার জমজ দুই মেয়েকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। তাদের প্রতি তিনি চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তবে তুফান তার স্ত্রী এবং মেয়ে আয়শা আক্তার তোয়া ও খাদিজা আক্তার তানহা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলার সাংবাদিক তার বাড়িতে গিয়ে সাক্ষাৎকার নিয়েছে। কিন্ত তারা অপপ্রচার করেছে। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কখনও সাহায্য প্রার্থনা করেনি। যার কারনে তারা ওই সংবাদের তিব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন।
কলেজ শিক্ষক ওবায়দুল রহমান, মামুন চৌধুরী এবং রেজা হাসান বলেন, এই কলেজে সম্প্রতী নতুন অধ্যক্ষ যোগদান করেছেন। এই কলেজের মান উন্নয়নের তিনি কাজ করছেন। বিশেষ করে সঠিক পাঠদানের মাধ্যমে এইচএসসি ফলাফলের কৃতিত্ব অর্জন করা এবং সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জোড়ল কাজ করে যাচ্ছেন।
সম্প্রতী ২০২৬ সালের এইএসসি ফলাফলে এই কলেজের অবস্থান বেশ ভালো। বিশেষ করে জমজ দুই বোন একই সঙ্গে পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা প্রশংসার দাবিদার। তাদের পিতা অক্লান্ত পরিশ্রম করে ওই জমজ দুই মেয়েদের পড়ালেখা করাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা প্রার্থনা করেনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সুপারভাইজার রাহেদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিক্ষার ফলাফল বিবেচনা করলে এই সরকারি কলেজ ভালো করেছে। এই কলেজ থেকে জমজ দুই শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে কৃতিত্ব অর্জন প্রশংসার উর্ধ্বে।
কলেজ অধ্যক্ষ সামসুল হক পত্রিকার প্রতিনিধিকে জানান, প্রত্যেক ব্যাক্তির সন্মান ক্ষুণ্য করার অধিকার কেউ রাখে না। ওই শিক্ষার্থীদের পরিবার দারিদ্রতার মাঝে থাকলেও তারা কখনও সাহায্য আবেদন করেনি। কিন্ত তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা ভদ্রতার পরিচয় নয়। যথারীতি ওই পরিবার প্রকাশিত সংবাদের তিব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে।
পরিশেষে অধক্ষ বলেন, এবারের ফলাফল হিসাবে দেশের উপজেলা পর্যায়ে এই কলেজ শ্রেষ্ঠ। আগামিতে প্রত্যেক ক্যাডেট কলেজের ফলাফল চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহন করে নতুন পথ চলা শুরু করেছেন। কলেজ শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের নিয়ে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থপনা নিয়ে কাজ করছেন।
পড়ুন : শেখ হাসিনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা থামবে না: জাহেদ উর রহমান
সা/


