মিরপুরে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক, মেট্রো স্টেশন চালু

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং সড়কে যান চলাচলও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। পরে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ অন্তত চারজনকে আটক করেছে।

সংঘর্ষের জেরে মিরপুর-১১ থেকে মিরপুর-১০ ও পল্লবীগামী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতির উন্নতি হলে যানবাহন চলাচল পুনরায় বাড়তে শুরু করে এবং একপর্যায়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

এদিকে সংঘর্ষের কারণে সকাল ১০টা ২২ মিনিট থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পুনরায় চালু করা হয়। এর আগে দুপুর ১২টা ২২ মিনিটেও স্টেশনটি বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছিলেন এমআরটি পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহসিন শেখ।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মাটিতে ফেলে মারধর করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দেওয়ার সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং ইটপাটকেলের মুখে এক পুলিশ সদস্য কোণঠাসা হয়ে গেলে তাকে মারধর করা হয়। সকালে অপর এক পুলিশ সদস্যকে লাঠিপেটার ভিডিও দেখার কথা স্বীকার করে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ডিএমপির পিওএম দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল আরিফ জানান, মাঠে থাকা আন্দোলনকারীদের প্রকৃত পোশাকশ্রমিক বলে মনে হচ্ছে না; তাদের মধ্যে দুষ্কৃতকারী ও বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে ইন্ধনদাতারা যুক্ত রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কিছু দুষ্কৃতকারী সবকিছু নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। আপনারা দেখেছেন, আমরা কঠোর হাতে পরিস্থিতি দমন করেছি। প্রয়োজনে আরও কঠোর হব।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রকৃত শ্রমিকরা হয়তো কাজে বা নিজ বাড়িতে আছেন, আর বর্তমানে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তাদের পেছনে অন্য কোনো পক্ষের ইন্ধন রয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় জলকামান, সাঁজোয়া যান ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-এর সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া অলিগলিতে পুলিশ নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে। উল্লেখ্য, এর আগে পোশাকশ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ৩৩ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিএমপি।

পড়ুন : শেখ হাসিনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা থামবে না: জাহেদ উর রহমান

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন