দিনাজপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসী হামলা, বাড়িতে লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
আজ ০৩ নভেম্বর ২০২৬, সোমবার দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মো: শাহীনুর আলম শাহীন (৫৬), রাজবাড়ী সবজিবাগান, ৬ নং ওয়ার্ড, দিনাজপুর।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১ নভেম্বর ২০২৬, রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি রাজবাড়ী সবজিবাগান থেকে বাস টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বাস আকরাম কাছাকাছি পৌঁছালে একজন সশস্ত্র ব্যক্তি পেছন থেকে অতর্কিতভাবে তার মাথায় সজোরে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়ে যান। এরপর তারা আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। তার মাথা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আমার এলাকার ফাহিম ফায়সালের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর এই হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে সামুরাই, হাসুয়া, লোহার রড, বিভিন্ন ধরনের পাইপ ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমি যখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, ঠিক সেই সুযোগে হামলাকারীদের একটি দল তাদের বাড়িতে গিয়ে পুনরায় হামলা চালায়। সাংবাদিক বন্ধুগণ, আমাদের বাড়িতে গিয়ে হামলাকারীরা পরিবারের নারী সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। শুধু তাই নয়, তারা বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি বাড়ি ও জমির গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিবারের নারী সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
এই হামলার পেছনে দীর্ঘদিনের একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে বলে ভুক্তভোগী মনে করেন। তার অভিযোগ, তাদের বাড়ির পেছনের বাড়ির বাসিন্দা আব্দুর রহমানের ছেলে জুয়েল হোসেন, নাড়িয়া ওরফে রফিকুল, মৃত ফরজল আলীর ছেলে আজিজার রহমান এবং মতিয়ার রহমানের ছেলে শামীমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ইন্ধন ও ষড়যন্ত্রে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া অভিযুক্ত ফাহিম ফায়সালের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
ফাহিম ফায়সালসহ সকল হামলাকারী এবং ইন্ধনদাতা জুয়েল হোসেন, আজিজার রহমান, নাড়িয়া ওরফে রফিকুল, শামীমসহ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা।
বর্তমানে পরিবারের নারী, শিশু ও বৃদ্ধ সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তাই পরিবারের সকল সদস্যের জানমাল ও বাড়িঘরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা।
বাড়ি থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার, মূল্যবান মালামাল এবং ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা জমির দলিলপত্রের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
ঘটনার ভিডিও, ছবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করার দাবি।
ভুক্তভোগী শাহীন বলেন, আমরা কোনো প্রতিশোধ চাই না। আমরা চাই ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা। ভবিষ্যতে আর কোনো নিরীহ পরিবারকে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা ও ভয়ভীতির শিকার হতে না হয়।
এসময় তিনি দিনাজপুরের মাননীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।
পড়ুন : শ্রমিক আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকের লাভ কতটুকু?
সা/


