নেত্রকোনায় ওষুধের ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে রমরমা মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন মো. এ এস এম সায়েম ওরফে অভি (৩৭) নামের এক ব্যক্তি। অবশেষে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবা, নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও একাধিক মোবাইল ফোনসহ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কের পারলা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে নেত্রকোনা মডেল থানা-পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার সায়েম নেত্রকোনা সদর উপজেলার বনোয়াপাড়া নেওয়াজনগর এলাকার নুরুল হকের ছেলে। তিনি বনোয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘সাফা ফার্মেসি’ নামের একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোনা মডেল থানা-পুলিশ জানতে পারে যে, নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কের পারলা মোড় এলাকায় মাদকের চালান হাতবদল হতে পারে। প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে থানা-পুলিশের একটি দল সেখানে তাৎক্ষণিক অবস্থান নেয় এবং তল্লাশি চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সায়েমের সাথে থাকা আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি কৌশলে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যান। তবে পুলিশ ধাওয়া করে সাফা ফার্মেসির মালিক সায়েমকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরে তার দেহ ও সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির নগদ ১৭ হাজার পাঁচশো টাকা, একটি ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং মাদক কারবারে ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
অনুসন্ধানে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিকভাবে নিজেকে একজন ফার্মেসি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত করেছিলেন সায়েম। বনোয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘সাফা ফার্মেসি’ নামে ওষুধের দোকান থাকায় সাধারণ মানুষের মনে তার প্রতি কোনো সন্দেহ তৈরি হতো না। বৈধ এই ব্যবসার আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ইয়াবা সংগ্রহ করে জেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ ও খুচরা বিক্রি করে আসতেন। চিকিৎসাসেবার আড়ালে তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ায় এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সায়েমকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পড়ুন : জেন্ডার স্টেরিওটাইপ, গুজব, অনলাইন হয়রানি মোকাবেলায় সংলাপ অনুষ্ঠিত


