মুশফিকের পর ক্যাচ শিখিয়ে ফিরলেন লিটন, হৃদয়ের প্রথম ফিফটি

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই প্রথমবারের মতো অর্ধশতকের দেখা পেলেন তাওহীদ হৃদয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাট হাতে দলের বিপর্যয়ের মধ্যে প্রতিরোধ গড়েছেন এই তরুণ ব্যাটার। তাঁর প্রথম টেস্ট ফিফটি পূর্ণ হওয়ার মুহূর্তে ড্রেসিংরুমের বাইরে এসে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তবে হৃদয়ের ব্যক্তিগত এই অর্জনের আনন্দের মধ্যেও স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে এখনো বড় ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিকেরা।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (দিনের খেলা চলাকালে) সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। আগের দিন আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা আগেভাগে শেষ হওয়ার আগে চতুর্থ উইকেটে ৭৩ রানের জুটি গড়েছিলেন মুশফিকুর রহিম ও হৃদয়। দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় হৃদয় ২৯ এবং মুশফিক ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।

তৃতীয় দিনের শুরুতে দুজনের কাছ থেকেই বড় ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিক। জোমেল ওয়ারিকানের ভাসানো বলে রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে শট খেলতে গিয়ে শর্ট কাভারে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ধরা পড়ার আগে ৩৪ রান করেন মুশফিক। তাঁর বিদায়ে ভাঙে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

এরপর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। অন্য প্রান্তে থাকা হৃদয় অবশ্য নিজের ব্যাটিংয়ে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যান। আগের দিন থেকেই টেস্ট ক্রিকেটের মেজাজ বুঝে ব্যাট করছিলেন তিনি। মাঝেমধ্যে আক্রমণাত্মক শট খেললেও ফিল্ডারদের বাধায় রান তুলতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছিল তাঁকে।

লিটন ক্রিজে এসেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। দুটি বাউন্ডারি আদায় করে নিলেও শেষ পর্যন্ত সেই আক্রমণাত্মক মনোভাবই কাল হয়ে দাঁড়ায় তাঁর জন্য। ওয়ারিকানের ফুল লেংথের অফ স্টাম্পের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রেন্ডন কিং সহজেই বলটি তালুবন্দী করেন। ৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন লিটন।

মুশফিক ও লিটনের বিদায়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে আবারও হতাশা নেমে আসে। দুজনই প্রায় একই ধরনের শটে ক্যারিবীয় ফিল্ডারদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ফলে বড় জুটি গড়ে দলকে বিপদমুক্ত করার সুযোগ হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান হৃদয়। ১০৯ বল মোকাবিলা করে নিজের প্রথম টেস্ট অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। এটি তাঁর আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচেই প্রথম ফিফটি। তরুণ এই ব্যাটারের অর্জনে ড্রেসিংরুমের বাইরে এসে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান কোচ ফিল সিমন্স। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের মধ্যে হৃদয়ের এই ইনিংস কিছুটা হলেও আশার আলো দেখিয়েছে।

হৃদয়ের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পঞ্চম উইকেট হারানোর পর তাঁদের ওপরই এখন বাংলাদেশের ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৪৮ রান, হারিয়েছে ৫ উইকেট। সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ২১৬ রানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিকেরা। ফলে ফলোঅন এড়ানো কিংবা ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে হৃদয় ও মিরাজের জুটি এখন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পড়ুন:সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন