মুশফিকের রেকর্ড ভেঙে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছেন হৃদয়। হৃদয়ের রান এখন ২২৩। এর আগে মুশফিকের ছিল ২১৯। বাংলাদেশের রানও এখন ৩৫৬। প্রথম ইনিংসে লিড পায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
১৭২ রানে পিছিয়ে থাকাবস্থায় বাংলাদেশ সাত উইকেট হারিয়ে বসে। সাদমান ইসলামের ইনজুরিতে হাতে ছিল স্রেফ ২ উইকেট। সেখান থেকে বাংলাদেশকে কেবল লিডের আশা দেখিয়েই থামেননি, রেকর্ডগড়া ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিও তুলে নিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। বাংলাদেশের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে তিনি দ্বিশতক করেছেন।
এর আগে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরির ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৮১ রানের রেকর্ড ছিল মুমিনুল হকের। তাকে ছাড়িয়ে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিকে হৃদয় দ্বিশতকে পূর্ণ করলেন। এর আগে তিন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের ব্যাটে পাঁচটি ডাবল সেঞ্চুরি হয়েছিল। তাদের মধ্যে মুশফিকুর রহিম তিনটি, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল করেন একটি করে। সেই তালিকায় নতুন নাম তাওহীদ হৃদয়।
এ ছাড়া সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথমবার টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার। এর আগে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ছিল বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১ ও শ্রীলঙ্কান ব্যাটার কামিন্দু মেন্ডিসের ১৬৪।
এর আগে উইন্ডিজদের বিপক্ষে টেস্টে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটার ১৫০ রানও পার করতে পারেননি। হৃদয় প্রথমবার সেই সীমা টপকে দ্বিশতক পূর্ণ করলেন। ৩০৪ বলে তিনি নিজের অবিশ্বাস্য ডাবল সেঞ্চুরির ইনিংস সাজিয়েছেন ১৯টি চার ও ৭টি ছক্কায়। এখন বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। ক্যারিবীয়রা এখনও এগিয়ে আছে ২৫ রানে।
অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ১১৭ রানের জুটি গড়েছিলেন হৃদয়। যা টেস্টে ওই উইকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। সর্বোচ্চ ১৪৪ রানের জুটি আছে মুশফিকুর রহিম ও মেহেদি হাসান মিরাজের। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওই রেকর্ড জুটি হয়েছিল।
যত কীর্তি হৃদয়ের
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম হাফসেঞ্চুরি, সেটিকে ম্যাজিক ফিগারের পর এবার ডাবল সেঞ্চুরিতে নিয়ে গেলেন। এরই সঙ্গে বেশ কিছু কীর্তিও গড়েছেন টাইগার এই ব্যাটার।
এর আগে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরির ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৮১ রানের রেকর্ড ছিল মুমিনুল হকের দখলে। তাকে ছাড়িয়ে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিকে হৃদয় দ্বিশতকে পূর্ণ করলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ডাবল হান্ড্রেডের মাইলস্টোনে পৌঁছালেন হৃদয়।
এর আগে তিন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের ব্যাটে পাঁচটি ডাবল সেঞ্চুরি হয়েছিল। তাদের মধ্যে মুশফিকুর রহিম তিনটি, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল করেন একটি করে। দ্বিশতকের এলিট তালিকায় নতুন নাম তাওহীদ হৃদয়।
সিলেট টেস্টের আগে টেস্ট ক্যারিয়ারের চার ইনিংসে ৫৪ রান করেছিলেন তাওহীদ হৃদয়। সিলেটে নিজেকে নতুন ভাবে চেনালেন হৃদয়। ঢাকা টেস্টে প্রশ্নবিদ্ধভাবে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন হৃদয়। টেস্ট দলে তার জায়গা নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। সেই হৃদয় যেন হৃদয় মোড়ানো এক ইনিংসে সব ভুলিয়ে দিলেন।
হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরির ইনিংসটা অনেক কারণেই বিশেষ হয়ে থাকবে। সিলেটে যখন ব্যাট করতে নেমেছিলেন তখন বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ২২ রান ছিল। ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়ায় ব্যাট করতে পারেননি ওপেনার সাদমান ইসলাম। গতকাল দ্বিতীয় দিনে মুশফিককে নিয়ে দিন শেষ করার পর আজ দিনের শুরু থেকেই একে একে বিদায় নেন সতীর্থরা। হৃদয় বলতে গেলে লেজের দিকের ব্যাটারদের নিয়ে একা লড়ে গেলেন।
পড়ুন : সিলেট টেস্টে তাওহীদ হৃদয়ের অসাধারণ সেঞ্চুরি


