ঢাকার ধামরাইয়ে সিএনজি নিয়ে বের হওয়ার পর আরিফুল ইসলাম (৩৮) নামে এক চালক নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজের পর তাঁর ব্যবহৃত সিএনজিটি উপজেলার খাগুরতা-বাটুলিয়া এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে গাড়ি পাওয়া গেলেও চালকের কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের আশঙ্কা, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁকে অপহরণ বা গুম করা হয়ে থাকতে পারে।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা স্টেশন এলাকা থেকে সিএনজি নিয়ে বাটুলিয়া মাঠের দিকে যান আরিফুল। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। রাত পেরিয়ে পরদিনও তাঁর খোঁজ না পেয়ে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে তাঁর ব্যবহৃত সিএনজিটি খাগুরতা-বাটুলিয়া এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। কিন্তু গাড়ির চালক আরিফুল সেখানে ছিলেন না। সিএনজিটি কীভাবে সেখানে পৌঁছাল, কে বা কারা সেটি ফেলে গেছে এবং আরিফুল কোথায় আছেন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ আরিফুল ইসলাম ধামরাই উপজেলার দক্ষিণ কাটাবাই এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. শুকুর আলী বেপারী এবং মায়ের নাম গোলাপরজান। পেশায় তিনি একজন সিএনজিচালক।
আরিফুলের বড় ভাই মো. জমির আলী (৫২) অভিযোগ করেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতা রয়েছে। এ বিরোধের জেরে আগে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তাঁর আশঙ্কা, পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাঁর ভাইকে অপহরণ কিংবা গুম করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জমির আলী জানান, ভাই নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করছেন। পরে তাঁর ব্যবহৃত সিএনজিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেলেও আরিফুলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। তিনি দ্রুত তাঁর ভাইকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ ঘটনায় শনিবার (৭ নভেম্বর) ধামরাই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন জমির আলী। জিডি নম্বর ৩৬৩। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ধামরাইয়ের সানোড়া ইউনিয়নের বাটুলিয়া এলাকা থেকে আরিফুল নিখোঁজ হন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম এনামুল হক জানান, নিখোঁজের ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির কপি তাঁরা পেয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
পড়ুন : পেকুয়ায় মেধাবীদের সন্ধানে টিইএফ বৃত্তি পরীক্ষা


