জাপানের মধ্যাঞ্চলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে বিভিন্ন এলাকার দোকানপাট ও ভবনের কাঁচের জানালা ভেঙে পড়েছে। কোথাও কোথাও দোকানের তাক থেকে বই ও অন্যান্য পণ্য নিচে পড়ে যায়। ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক বা পরবর্তী কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই অঞ্চলে বুলেট ট্রেনের গতিও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪ মিনিটের দিকে জাপানের মধ্যাঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল শিজুকা অঞ্চলে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ৭ বলে জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫।
ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে আইচি প্রশাসনিক অঞ্চলের হামামাতসু শহরসহ আশপাশের বিস্তৃত এলাকায়। এ ছাড়া ইয়ামানসি অঞ্চলের বাসিন্দারাও শক্তিশালী কম্পন অনুভব করেন। এই অঞ্চলের কাছেই অবস্থিত জাপানের বিখ্যাত মাউন্ট ফুজি পর্বত।
জাপানের টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির বিভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। কোথাও সড়কের ওপর দোকানের ভাঙা কাঁচ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে একটি বইয়ের দোকানে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে তাকের ওপর রাখা প্রায় সব বই মেঝেতে পড়ে যায়। বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাঁচের জানালাও ভেঙে গেছে।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই অঞ্চলে একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভূমিকম্পের পর ভবন ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দেয়। বিশেষ করে পুরোনো ভবন, দোকানপাট এবং বিভিন্ন স্থাপনায় কোনো ধরনের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। তবে তাঁদের আঘাতের ধরন কিংবা কতজনের অবস্থা গুরুতর, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জাপান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হওয়ায় দেশটির ভবন নির্মাণ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তবুও মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিভিন্ন স্থাপনা ও যোগাযোগব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। এবারের কম্পনেও তার প্রভাব দেখা গেছে।
ভূমিকম্পের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর মধ্য দিয়ে চলাচলকারী বুলেট ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এপি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে রেললাইন বা সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রেললাইন ও অন্যান্য অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। জাপানের দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন দেশটির যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ভূমিকম্পের পর যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল শিজুকা অঞ্চল থেকে রাজধানী টোকিও বেশ দূরে অবস্থিত। ফলে রাজধানীতে বসবাসকারী মানুষেরা এই ভূমিকম্পের কম্পন অনুভব করেননি বলে এপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে আইচি, শিজুকা ও ইয়ামানসি অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে হামামাতসু শহর ও আশপাশের এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির বিভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে।
শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে জাপানের মধ্যাঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও যোগাযোগব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে। আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি রেললাইনসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা যাচাই করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের পরবর্তী কম্পন অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে দেশটির সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
পড়ুন:বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইরানের কেশম দ্বীপ
ইমি/


