গাজীপুর মহানগরের সদর থানার দাখিনখান এলাকায় কৃষকদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনাটি ঘটে, যখন ২৯ বছর বয়সী রাকিব মোল্লা, যিনি গাজীপুর সদর থানার কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিব মোল্লা ও তার প্রতিপক্ষের মধ্যে ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে বিরোধ চলছিল।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইমতিয়াজ ও সেলিম নামে দুই ব্যক্তি ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করতেন, এবং ৯ এপ্রিল রাকিব মোল্লা এই ব্যবসাটি দখল করেন। এরপর থেকে ইমতিয়াজ, সেলিম ও রাকিব মোল্লার মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব শুরু হয়। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে রাকিব মোল্লা দাখিনখান এলাকায় অবস্থান করছিলেন, তখন ইমতিয়াজ, সেলিমসহ আরও ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা রাকিবকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা রাকিবকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, নিহত রাকিবের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, নিহত রাকিব মোল্লা কৃষক দলের গাজীপুর মহানগর শাখার প্রস্তাবিত যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এবং তিনি কৃষকদলের সভাপতির পদে প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলমাস মোল্লার ভাতিজা এবং সদর মেট্রো থানা শ্রমিকলীগের আহ্বায়ক ছিলেন।
পুলিশের ধারণা, কৃষকদল এই হত্যাকাণ্ডটি এলাকার আধিপত্য বিস্তার এবং ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা বিরোধের ফলস্বরূপ ঘটেছে। নিহত রাকিবের মাথা, ঘাড় এবং হাতসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশের তদন্ত চলছে, এবং এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ঘটনাটি গাজীপুরে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে ঘটে, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
পড়ুন: গাজীপুরে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নারীসহ তিনজন নিহত
দেখুন: গাজীপুরে বনবিভাগের প্রায় ১২ হাজার একর জমি বেদখল |
ইম/


