ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের হামলার জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ২২ এপ্রিল সংঘটিত ওই হামলায় ভারতের একাধিক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন। ভারত এ ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করে এবং বহু পুরনো সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এরই প্রেক্ষিতে আঞ্চলিক উত্তেজনার বিষয়টি প্রতিবেশী বাংলাদেশকে অবহিত করেছে পাকিস্তান।
সোমবার (৫ মে) পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, আলোচনায় ভারতীয় ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ এবং একতরফা পদক্ষেপগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেন ইসহাক দার।
তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে জানান, ভারতের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন ও দুই দেশের মধ্যে থাকা ঐতিহাসিক চুক্তির পরিপন্থী। পাকিস্তানের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য অশনি সংকেত।
ফোনালাপে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে সংযম প্রদর্শন ও উত্তেজনা হ্রাস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “বাংলাদেশ সবসময় আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে এবং যেকোনো দ্বন্দ্বের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।”
এছাড়া দুই দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাশ্মির ইস্যু কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের ভারসাম্য আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এর প্রভাব শুধু ভারত-পাকিস্তান নয়, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও পড়তে পারে। ফলে এই মুহূর্তে সংলাপ ও কূটনৈতিক সচেতনতাই হতে পারে উত্তেজনা প্রশমনের মূল পথ।
পড়ুন: ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝেই আবারও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পাকিস্তানের
দেখুন: ভারতের উপর এবার উল্টো বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞা
ইম/


