জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় হিমাগারে আলু সংরক্ষণের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। রোববার দুপুরে উপজেলার শিমুলতলী এলাকায় জয়পুরহাট-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা জানান, চলতি মৌসুমে হিমাগারে ৬৫ কেজির এক বস্তা আলু সংরক্ষণের ভাড়া বাড়িয়ে ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ২৮০ টাকা। ফলে প্রতিটি বস্তায় গড়ে ১৭০ টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছে। বাজারে আলুর দাম কমে যাওয়ায় এমনিতেই তারা লোকসানে রয়েছেন, এর মধ্যে বাড়তি ভাড়া তাদের আরও ক্ষতির মুখে ফেলেছে।
আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজারমূল্য কম থাকায় আলু বিক্রি করেও মূলধন উঠছে না। হিমাগারের উচ্চ ভাড়া দিয়ে তারা কার্যত দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছেন।
চাষি আব্দুল হান্নান বলেন, এই বাড়তি ভাড়া পরিকল্পিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আদায় করা হচ্ছে। দেড় লাখ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণের পেছনে কত কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় হচ্ছে, তা হিসেব করলেই বোঝা যায়।
আলু ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, এক বস্তা আলু সংরক্ষণের খরচ পড়ছে ১১০০-১১৫০ টাকা। অথচ সেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে ৮০০ টাকায়। বস্তাপ্রতি লোকসান গুনছি ৩০০ টাকা করে।
বিক্ষোভের সময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে সৃষ্টি হয় যানজট। সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
বাসযাত্রী হালিমা বেগম বলেন, রোদের মধ্যে বাচ্চা নিয়ে আধাঘণ্টা গাড়িতে বসে থাকতে হয়েছে। খুব কষ্ট হয়েছে। তবে ভাড়া কমানোর খবর পেয়ে স্বস্তি লাগছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহান ও কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন। তারা হিমাগার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতি বস্তায় ৩৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেন। এরপর বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের বগুড়া জোনের কোষাধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার প্রসার বলেন, আমরা কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নিইনি। অ্যাসোসিয়েশনের নির্ধারিত হারে কৃষকদের কাছ থেকে ৪১০ টাকা এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৪২০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে এখন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি বস্তায় ৩৫০ টাকা নেওয়া হবে।
ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান বলেন, বাড়তি ভাড়ার অভিযোগে এর আগেও হিমাগার মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তারা মৌখিকভাবে আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা মানেনি। আজকের আলোচনায় তারা ৩৫০ টাকা বস্তাপ্রতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, জয়পুরহাট জেলায় মোট ১৯টি হিমাগার রয়েছে, এরমধ্যে কালাই উপজেলাতেই রয়েছে ১১টি। এসব হিমাগারে প্রতি মৌসুমে বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে।
পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে আটো রিকশার সাথে প্রাইভেটকারের ধাক্কা, অস্ত্র প্রদর্শন ও ৭০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার এক
দেখুন: টাঙ্গাইলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ইউএনও
ইম/


