০১/০৩/২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ
24.9 C
Dhaka
০১/০৩/২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ইতালিজুড়ে গাজা সংহতিতে সাধারণ ধর্মঘটে রাস্তায় লাখো মানুষ

ইসরায়েলি নৌবাহিনীর দ্বারা গাজামুখী মানবিক ত্রাণবাহী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকে দেওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো ইউরোপ। এরই প্রতিক্রিয়ায় ইতালির সবচেয়ে বড় শ্রমিক সংগঠন CGIL, USB সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ডাকে আজ ৩ অক্টোবর দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হচ্ছে।

ইতালির রাস্তায় আজ লাখো মানুষ ‘গাজা বাঁচাও, মানবতা বাঁচাও’ স্লোগানে গর্জে উঠেছে।

রোম: হাজার হাজার বিক্ষোভকারী পার্লামেন্টের সামনে জড়ো হয়েছে। ‘ফ্রী প্যালেস্টাইন’ লেখা ব্যানার হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের নেতৃত্বে।নেপলস: প্রধান রেলস্টেশন অবরোধ করে রেখেছে বিক্ষোভকারীরা। ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ।মিলান ও তুরিন: বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলগুলোতে ক্লাস বন্ধ। শিক্ষার্থীরা দখল করেছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।পালেরমো, বোলোনিয়া, জেনোয়া সহ উপকূলীয় শহরগুলোর বন্দর কর্মীরাও ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন — ইসরায়েলগামী কোনো কার্গো লোড-আনলোড করা হচ্ছে না।

ইসরায়েলের গাজা অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার আটক ফ্লোটিলা সদস্যদের মুক্তি ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত ইতালি সরকারের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক অবস্থান নেওয়া ইতালিতে ইসরায়েলি অস্ত্র আমদানি ও বাণিজ্য বন্ধের দাবি

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় রয়েছে ৪৫টি বেসামরিক নৌযান, যাতে রয়েছেন ৪০ দেশের প্রায় ৫০০ মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী।

এর মধ্যে গ্রেটা থুনবার্গসহ কয়েকজন প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক কর্মী আটক হয়েছেন।ইসরায়েল তাদের আশদোদ বন্দরে নিয়ে গেছে এবং ধাপে ধাপে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।একাধিক জাহাজে লাইভ সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।এখনও কিছু জাহাজ গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে, তবে তা ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ধর্মঘটকে অর্থনৈতিক চক্রান্ত ও রাজনৈতিক নাটক বলে মন্তব্য করেছেন।পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্টোনিও তজানি বলেছেন, “ইসরায়েলের নিরাপত্তার অধিকার থাকলেও মানবিক ত্রাণ আটকানো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।বিরোধী দলগুলো মেলোনির অবস্থানকে গাজা-বিদ্বেষী ও অমানবিক” বলে সমালোচনা করেছে।

স্পেন, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকা ইতিমধ্যেই ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে।জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ একটি জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে।ইউরোপজুড়ে একাধিক শহরে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্লিন, প্যারিস, লন্ডন, ব্রাসেলসসহ।

বিক্ষোভের ছবি, ব্যানার, মানববন্ধন এবং প্যালেস্টাইনের পতাকায় মোড়া রোমের কলসিয়াম গোটা ইতালি যেন রূপ নিয়েছে এক বিশাল প্রতিবাদস্থলে।

রোমের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, এই ধর্মঘট কোনো রাজনীতি নয় এটা ন্যায়ের পক্ষে, মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমরা গাজার শিশুদের পাশে আছি।

ইতালির এই সর্বাত্মক ধর্মঘট ইঙ্গিত দিচ্ছে ইউরোপের সাধারণ জনগণ আর চুপ থাকছে না। গাজা সংকটে রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা তাদের উত্তেজিত করেছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হবে এই আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সরকার ও বিশ্বনেতারা কী পদক্ষেপ নেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকানোর প্রতিবাদে ইতালিতে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন