মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে একই সঙ্গে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি একদিকে ভাটপাড়া বিএন কলেজে প্রভাষক, অন্যদিকে গাড়াবাড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করে গত ১৬ বছর ধরে তিনি এই দুটি পদে বিধি বহির্ভূতভাবে চাকরি করে আসছেন।
জানা গেছে, গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মৃত খলিলের ছেলে জিয়াউর রহমান ২০১০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ভাটপাড়া বিএন কলেজে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি গাড়াবাড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি নিয়মিত স্কুল-কলেজে উপস্থিত না থেকে নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেও অজ্ঞাত ক্ষমতার প্রভাবে বছরের পর বছর তিনি দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে যাচ্ছেন। স্কুল বা কলেজে নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুললে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের হুমকির মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে বছরের পর বছর এমন অনিয়ম চললেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কিংবা সদস্যরা।
এ বিষয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, একজন ব্যক্তি অবৈধভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করায় উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে শিক্ষা ব্যবস্থা আরও হুমকির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
গাড়াবাড়িয়া বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোনালী খাতুন জানান, জিয়াউর রহমান স্যার সপ্তাহে বুধ ও বৃহস্পতিবারে আমাদের পৌরনীতি ক্লাস নেন। একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসপিয়া খাতুন বলেন, স্যার আমাদের প্রতিদিন গণিত ক্লাস নেন। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বৈশাখী খাতুন জানান, স্যার বুধ ও বৃহস্পতিবার বাংলা ব্যাকরণ এবং রবি ও মঙ্গলবার পৌরনীতি ক্লাস নেন।
গাড়াবাড়িয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুস্তাকিম রহমান বলেন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জিয়াউর রহমান সমাজবিজ্ঞান বিভাগে চাকরি করে আসছেন।
ভাটপাড়া বিএন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তাক আহমেদ মুঠোফোনে জানান, ২০১০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তবে তিনি নিয়মিত কলেজে আসেন না।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গাড়াবাড়িয়া বালিকা বিদ্যালয় ও ভাটপাড়া বিএন কলেজে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক জিয়াউর রহমানকে পাওয়া যায়নি।
গাংনী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, একই ব্যক্তি একযোগে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন- দিনাজপুর এগ্রো সার্ভিস সেন্টারের রাজস্ব আদায়ে শতভাগ সাফল্য


