25.7 C
Dhaka
০৪/০৩/২০২৬, ২১:৪৭ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

২১শে বইমেলায় মোফরাদ হোসেন অলিন্দের প্রথম গ্রন্থ ‘গোকুল দাদুর গল্পের হাট’

বইয়ের গন্ধ, কাগজের স্পর্শ আর বেড়ে ওঠার গল্প—এই অনুভূতির মধ্যেই এক লেখকের জন্ম। সেই অনুভূতিকে বাস্তবে রূপ দিতে অবশেষে ২১শে বইমেলায় প্রকাশিত হতে যাচ্ছে মোফরাদ হোসেন অলিন্দের প্রথম গ্রন্থ ‘গোকুল দাদুর গল্পের হাট’।

দীর্ঘদিনের লেখালেখি, প্রকৃতি-প্রেম আর মানুষের গল্প বুকে ধারণ করে তিনি এবার পাঠকের সামনে হাজির হচ্ছেন নিজের প্রথম বই নিয়ে—যেন বহুদিনের জমে থাকা ভালোবাসার প্রথম উচ্চারণ।

যশোরের একটি প্রখ্যাত পরিবারে জন্ম নেওয়া মোফরাদ হোসেন ছোটবেলা থেকেই বেড়ে উঠেছেন সাংস্কৃতিক আবহে। বাবা মারুফ হোসেন ও মা নিলুফা ইয়াসমিনের স্নেহ আর মূল্যবোধের শিক্ষাই তার ভেতরে তৈরি করেছে মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি গভীর টান। প্রাণ, প্রকৃতি ও মানুষের গল্পই হয়ে উঠেছে তার ভাবনার স্থায়ী ঠিকানা।

দেশের ইংরেজি ও বাংলা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত সম্পাদকীয় কলাম ও ফিচার লেখার মাধ্যমে তিনি পরিচিত নাম। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নালেও প্রকাশিত হয়েছে তার গবেষণা প্রবন্ধ। কিন্তু লেখকের ভেতরের সুপ্ত স্বপ্ন ছিল অন্য—বড়দের জন্য লিখলেও শিশুদের জন্যও লিখতে চেয়েছেন এমন গল্প, যেখানে থাকবে মানবিকতা, থাকবে প্রকৃতির প্রতি মমতা, থাকবে জীবনের সহজ পাঠ।

গল্পের জন্ম প্রকৃতির কাছে প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই হাতে তুলে নিয়েছিলেন ক্যামেরা। বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতির অসংখ্য মুহূর্তকে বন্দি করতে করতে তিনি দেখেছেন জীবনের অদেখা রূপ—নিঃশব্দ ভাষা, সহমর্মিতা আর বেঁচে থাকার সংগ্রাম। সেই অভিজ্ঞতার আলোতেই জন্ম নেয় ‘গোকুল দাদুর গল্পের হাট’।

এ বইয়ে শিশু-কিশোরদের জন্য গল্পের ছলে বলা হয়েছে বিকশিত হওয়া, পৃথিবীকে ভালোবাসা আর সহানুভূতির পাঠ। তার তোলা আলোকচিত্র দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রদর্শনী ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন নানা পুরস্কার; এর মধ্যে ২০১৭ সালে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক আয়োজিত “জীবনের জয়গান” পুরস্কার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

শিক্ষক, সংগঠক ও স্বপ্নবাহক পেশায় তিনি একজন শিক্ষক এবং বর্তমানে রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে পাঠদান করছেন। ছাত্রজীবন থেকেই যুক্ত আছেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে—বাংলাদেশ ফোটোগ্রাফিক সোসাইটির জীবন সদস্য, ‘কিচির-মিচির’ ও ‘গর্জে ওঠো’র উপদেষ্টা এবং যশোর ইন্সটিটিউটের জীবন সদস্য হিসেবে সম্পৃক্ত আছেন বহুদিন।

প্রথম বই, প্রথম স্পর্শ মোফরাদ হোসেনের কাছে বইটি শুধু একটি প্রকাশনা নয়—এ যেন প্রকৃতির সাথে তার নিবিড় যোগাযোগকে পাঠকের হাতে তুলে দেওয়া। তিনি বিশ্বাস করেন, শিশু-কিশোররা গল্প পড়ে বড় হয় না; গল্পের ভেতর দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হয়ে ওঠে।

এবারের বইমেলায় ‘গোকুল দাদুর গল্পের হাট’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে তার নতুন পথচলা। লেখকের ভাষায়, “এই বই যদি কোনো কোমলমতি মনে প্রকৃতির জন্য একটু ভালোবাসার জাগায় তৈরি করে দিতে পারে, তাহলেই আমার লেখা সার্থক।”

প্রথম বইয়ের প্রথম পাতা খুলতেই যেন ভেসে আসে মাটির গন্ধ, বনের গন্ধ আর জীবনের কোমল শিক্ষা—আর সেখানেই মোফরাদ হোসেন অলিন্দের স্বপ্ন ছুঁয়ে যায় পাঠকের হৃদয়।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বইমেলা থেকে সরে দাঁড়াল ‘প্রকাশক ঐক্য’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন