নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী ও দুর্গাপুর উপজেলায় শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন পেশায় কৃষক এবং অপরজন রাজমিস্ত্রি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া গ্রামের রাজেন্দ্র সরকারের ছেলে কৃষক সুদিন সরকার (৪৩) বাড়ির পাশে নলচিটি হাওড়ে গরুকে ঘাস খাওয়াতে যান। এ সময় হঠাৎ ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হলে তিনি গরু নিয়ে হাওরেই অবস্থান করছিলেন। বৃষ্টির মাঝেই হঠাৎ তীব্র বজ্রপাতে তিনি মারাত্মক আহত হয়ে মাঠে লুটিয়ে পড়েন।
বৃষ্টি কিছুটা কমলে হাওড়ে থাকা অন্য কৃষকরা সুদিন সরকারকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরউদ্দিন জানান, “বজ্রপাতে মৃত্যুর কোনো খবর আমার জানা নেই। তবে লেপসিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে খবর নিচ্ছি।” অন্যদিকে, এ বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীমের সাথে যোগাযোগের করলে তিনি বজ্রপাতের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এদিকে, একই দিন সকালে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চণ্ডিগড় ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে বজ্রপাতে আকাশ মিয়া (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি একই এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে এবং পেশায় রাজমিস্ত্রি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য খোকন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার সকালে আকাশ কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পথিমধ্যে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাকে একটি ধানক্ষেতের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সেখান থেকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান বলেন, “রোগীকে হাসপাতালে আনার পর আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত অবস্থায় পাই। ওই ব্যক্তির শরীরে বজ্রপাতে মৃত্যুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো পাওয়া গেছে।”
এ ঘটনার বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, “বিষয়টি আমরা জেনেছি এবং ঘটনাস্থলে ইতোমধ্যে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।”
নেত্রকোনার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার বলেন, পৃথক দুই উপজেলার ইউএনওগণ বজ্রপাতের নিহতের পরিবারের খোঁজ নিচ্ছেন। নিহতদের পরিবারকে শুকনো খাবারসহ দাফন কার্যের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
পৃথক এই দুই মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পড়ুন- মির্জা আব্বাসকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেছেন প্রধানমন্ত্রী
দেখুন- নতুন আসছি তো, ছোটখাটো ভুল হয়েই যায়: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়


