মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অনেক দেশ যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। তবে কোন কোন দেশ এতে অংশ নেবে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শনিবার (১৪ মার্চ) সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘অনেক দেশ, বিশেষ করে ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রণালিটি খোলা ও নিরাপদ রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেনসহ আরও কয়েকটি দেশ ওই এলাকায় জাহাজ পাঠাবে। তবে এই বিষয়ে কোনো দেশ যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে সম্মত হয়েছে কিনা তা জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সকে কোনো মন্তব্য করেনি।
একই পোস্টে ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র উপকূলজুড়ে তীব্র বোমাবর্ষণ চালাবে এবং ইরানের নৌকা ও জাহাজগুলোকে গুলি করে ধ্বংসের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।’
সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। বিশেষ করে সাইপ্রাস দ্বীপের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এর কারণ ২ মার্চ সেখানে একটি ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানে তৈরি একটি ড্রোন আঘাত হানে।
এদিকে ইরান জাহাজে হামলা বাড়ানোর পর উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত সমরাস্ত্র ও সামরিক সদস্য মোতায়েনের বিকল্পও বিবেচনা করছে ব্রিটেন। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, এ বিষয়ে মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ফ্রান্সের নৌবাহিনী মোতায়েন
ফ্রান্সও মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষামূলক সহায়তার অংশ হিসেবে প্রায় এক ডজন নৌযান মোতায়েন করছে। এর মধ্যে তাদের বিমানবাহী রণতরীসহ একটি স্ট্রাইক গ্রুপ রয়েছে, যা ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর এবং প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালি এলাকায় অবস্থান নেবে।
ফরাসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ইউরোপ, এশিয়া ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের সময় যুদ্ধজাহাজ দিয়ে সেগুলোকে নিরাপত্তা দেয়ার একটি পরিকল্পনা তৈরি করা যায়।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

