অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় ও যমুনা সেতুর উপর একাধিক যানবাহন বিকল হওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল- যমুনা সেতু মহাসড়কের অন্তত ৩০ কিলোমিটার থেকে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তীতে পড়েছেন এ মহাসড়ক দিয়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষ। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের বেশি ভোগান্তি পড়তে হচ্ছে। যানজটের ফলে যমুনা দিয়ে দিয়ে দেড় ঘন্টা একমুখো যানবাহন চলাচল করে।
বৃহস্পতিবার ভোর রাত থেকে মহাসড়কের যমুনা সেতু থেকে করটিয়া পর্যন্ত এলাকা জুড়ে থেমে থেমে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পরেছে তবে যানজট নিরসনে মহাসড়কে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে।
পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, মহাসড়কে দীর্ঘ যানবাহনের কারণে যমুনা সেতু দিয়ে সকাল ১১টা ৪০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলাচল করে। এসময় ঢাকাগামী যানবাহন বন্ধ থাকে। গতকাল বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত যমুনা সেতুর উপর প্রায় ১৭ টি গাড়ি বিকল ও স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায় এছাড়া সেতুর উপরে গাড়ি থামিয়ে অনেকেই ঝগড়া করেছে। এর ফলে মহাসড়কের যানবাহনের দীর্ঘ সাড়ির তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কে মানুষের ব্যাপক চাপ রয়েছে। থেকে থেকে যানবাহন চলছে। পরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপে যাতায়াত করছেন। এছাড়া কেউ কেউ ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকার ও নিজস্ব মোটরসাইকেলেও গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন। যানজট নিরসলে পুলিশকে বিভিন্নস্থানে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
চালক ও যাত্রীরা বলেন, ৩ ঘণ্টার সড়ক পাড়ি দিতে ৬- থেকে ৮ ঘণ্টা লাগছে। এতে আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই।
বাসযাত্রী তারেক মন্ডল বলেন, পরিবারের অন্যন্য সদস্যদের দিয়ে ঈদ করে বাড়ি গাইবান্ধায় যাচ্ছি। চন্দ্র থেকে আমাদের টাঙ্গাইল সীমানায় আসতে ৪ ঘণ্টা সময় লেগেছে। এমন যানজটের কারণে সব মিলেয়ে বাড়ি থেকে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা লাগবে। অন্যন্য সময়ে ৬ ঘণ্টায় গাইবান্ধায় যাওয়া যায়।
আরেক বাসযাত্রী সেলিম মিয়া বলেন, গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত আসতে আমাদের ৩ ঘণ্টা সময় লেগেছে। অন্যন্য সময়ে মাত্র দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। এতে ঈদে ঘরমুখো সকল মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে।
ট্রাক চালক মোহাম্মদ জাহিদ বলেন, রাত ৩টা থেকে যানজট শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্তও যানজট পাচ্ছি। এতে আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই।
বাস চালক ইছাক বলেন, চন্দ্রা থেকেই যানজট শুরু। এখনো যানজটে আটকা রয়েছি। সরকারের কাছে ঈদযাত্রায় যানজট মুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপের দাবি করছি।
এদিকে যমুনা সেতু’র ওপর দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১ হাজার ৫৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬শ’ টাকা। গাড়ি না পেয়ে খোলা ট্রাক ও পিক-আপের করে বাড়ি যাচ্ছেন যাত্রীরা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত গাড়ির কারণে সেতু দিয়ে একমুখী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। সেতুর বারবার গাড়ি বিকল হচ্ছে। বিকল হওয়া গাড়িগুলো সড়িয়ে নিতে একটু সময় লাগায় যানবাহনের দীর্ঘ সাড়ির তৈরি হয়েছে। ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশ দিয়ে ৯টি করে মোট ১৮ বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে । এর মধ্যে দুইপাশেই ২টি করে বুথ দিয়ে আলাদাভাবে মোটরসাইকেল পারাপার হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষনিক টোল বুথ চালু করার চেষ্টা করছি।
পড়ুন : যমুনা সেতু দিয়ে ৫১ হাজার যানবাহন পারাপার, টোল আদায় ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা


