চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি বেসরকারি স্কুলে আবাসিক শিক্ষার্থীর ট্রান্সফার সার্টিফিকেট, ব্যবহৃত আসবাব ও বিভিন্ন জিনিসপত্র আনতে গিয়ে এক নারী অভিভাবককে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এসময় জোরপূর্বক আটকে রেখে ওই নারীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এশিয়ান প্রি-ক্যাডেট স্কুল এ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ওই নারীকে হেনস্তার অভিযোগ তোলা হয়।
ভুক্তভোগী নারী অভিভাবক জাহানারা খাতুন (৩৬)। তার বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের বালিয়াদিঘী গ্রামে। গত দুই সপ্তাহ আগে তার ছেলে অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া শিক্ষার্থী মো. হালিমকে স্কুল থেকে নিয়ে যায় তার পরিবার।
ওই নারীর অভিযোগ, ট্রান্সফার সার্টিফিকেট ও ছেলের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র চাইতে আসলে এক মেয়েসহ তাকে কয়েক ঘন্টা ধরে বসিয়ে রাখে স্কুলের প্রধান শিক্ষক। এরপর বেলা ৩টার দিকে পুনরায় চাইতে গেলে জাহানারা খাতুনকে নারী শিক্ষক দিয়ে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং আটকে রাখা হয়। এসময় হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করা হয় এশিয়ান প্রি-ক্যাডেট স্কুল এ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দাসের বিরুদ্ধে।
অভিভাবক জাহানারা খাতুন বলেন, ছেলে অসুস্থ থাকায় স্কুল আসা বন্ধ করে দিয়েছি। আজ সকালে ছেলের বিভিন্ন জিনিসপত্র আনতে আসলে কয়েক ঘন্টা ধরে নানারকম টালবাহানা শুরু করে। বেলা ৩টার দিকে আমাকে আটকে রাখা হয়। এমনকি নারী শিক্ষকরা আমার গায়ে হাত দেয়। প্রধান শিক্ষক অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ নানারকম হুমকি-ধামকি দেয়। এসময় দৌড় দিয়ে পালিয়ে এসে বাইরে ছুটে আসি। পরে আমাকে টেনেহিঁচড়ে ভিতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে তারা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী রাকিবুল ইসলাম জানান, মোড়ের উপর দেখি মেয়েটি কান্নাকাটি করছে। আমার মতো অনেকেই তার কাছে ছুটে আসে। পরে তার কাছে ঘটনা শুনি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ছেলের জিনিসপত্র নিতে এসে তাকে এভাবে হেনস্তা করা উচিত হয়নি। শিক্ষকদের কাছে এমন ব্যবহার আমরা আশা করিনা।
আরেক অভিভাবক আব্দুস সালাম (ছদ্মনাম) সময় সংবাদকে বলেন, প্রধান শিক্ষকের ব্যবহার ভালো নয়। অভিভাবকদের সাথে ভালো ব্যবহার করা করেনা। আজকের ঘটনায় প্রত্যেক অভিভাবক ভীষন উদ্বিগ্ন। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি। একজন নারী অভিভাবককে এমন হেনস্তা ও অপদস্ত কোনভাবেই কাম্য নয়।
তবে নারী অভিভাবককে হয়রানী, মারধর, আটকে রাখা ও হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করেন এশিয়ান প্রি-ক্যাডেট স্কুল এ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দাস। তিনি বলেন, আজকে স্কুলের বিদায় ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানের কারনে স্কুল বন্ধ রয়েছে। এসময়ের মধ্যেই ওই নারী দীর্ঘ সময় ধরে আবাসিক ভবন ও স্কুলের সামনে এসে হট্টগোল সৃষ্টি করে। তাকে শনিবার আসতে বললেও না শুনে উল্টো আমাদেরকেই নানারকম হুমকি-ধামকি ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। তবে তার উত্তরে কথা বললেও আমরা তাকে হেনস্তা অপদস্ত করিনি। দুর্ব্যবহারের কোন প্রশ্নই আসেনা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিষয়ে বিকেল ৬টা পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন : জুলাই সনদ দেশবাসীর সম্পদ, বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর: ভোলায় স্পিকার


