নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় গার্মেন্টসকর্মী গৃহবধূকে কাঠের রুল দিয়ে পিটিয়ে এবং জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মাশরাফি ইসলাম পিয়েলকে (২২) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ৯টার দিকে গাজীপুর সদর থানাধীন সালনা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে গা ঢাকা দেওয়া আসামিকে ধরতে র্যাব-১৪ (ময়মনসিংহ) ছায়াতদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৪ এর সদর কোম্পানি এবং র্যাব-১, সিপিএসসি (পোড়াবাড়ি, গাজীপুর ক্যাম্প) এর যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুরের সালনা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত পিয়েলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়।
মামলার এজাহার ও বাদীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানায়, নিহত গৃহবধূ এবং অভিযুক্ত পিয়েল দুজনেই গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। কাজের সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা একপর্যায়ে শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয়। পরবর্তীতে ওই তরুণী পিয়েলকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্ররোচনায় সে অস্বীকৃতি জানায়। নিরুপায় হয়ে তরুণী পিয়েলের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। পরে পারিপার্শ্বিক চাপে ও স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় পিয়েল তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। তবে বিয়ে করলেও পিয়েলের মনে চরম ক্ষোভ জমা ছিল এবং সে সুযোগ পেলেই স্ত্রীর ক্ষতিসাধনের চেষ্টা চালাতো।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইফতারের সময় পিয়েল ও মামলার অন্য আসামিরা কৌশলে ওই গৃহবধূর খাবারে বিষ মিশিয়ে দেয়। ভুক্তভোগী বিষয়টি টের পেয়ে ইফতার করতে অস্বীকৃতি জানালে পিয়েল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় সে কাঠের রুল দিয়ে স্ত্রীর মাথায় সজোরে আঘাত করে এবং কিল-ঘুষি মেরে জোরপূর্বক বিষযুক্ত খাবার খাইয়ে দেয়।
হাসপাতালে লাশ ফেলে আসামিদের পলায়ন
মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় অভিযুক্ত পিয়েল ও অন্যরা ভুক্তভোগীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে গৃহবধূর বাবা জায়গীর হোসেন ওরফে জাকির হাসপাতালে পৌঁছানো মাত্রই আসামিরা লাশ ফেলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই গৃহবধূকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা জায়গীর হোসেন বাদী হয়ে গত ২ মার্চ নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানায় পিয়েলসহ কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামি পিয়েলের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ইতোমধ্যে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


