দীর্ঘ ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আলোচিত রানা প্লাজা হত্যা মামলার বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণে ধীরগতির কারণে মামলার কার্যক্রম বারবার বিলম্বিত হচ্ছে। তবে আগামী ৩০ এপ্রিল নির্ধারিত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রয়োজনে সাক্ষী তালিকা সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত বিচার শেষ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ভবন ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিক নিহত হন এবং আহত হন দুই হাজারের বেশি। এত বছর পরও সেই ভয়াবহ ঘটনার ক্ষত এখনো বহন করছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
ঘটনার আগের দিন ভবনটিতে ফাটল দেখা দিলেও পরদিন শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে জেনারেটর চালুর পরপরই ভবনটি ধসে পড়ে।
এ ঘটনায় হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। ২০১৬ সালের জুনে আদালত বিচার শুরুর নির্দেশ দিলেও তা হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেন কয়েকজন আসামি।
বর্তমানে ৪১ আসামির মধ্যে সোহেল রানা একমাত্র কারাগারে রয়েছেন। তার বাবাসহ তিন আসামি মৃত্যুবরণ করেছেন, ১০ জন পলাতক এবং ২৭ জন হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ফয়সাল মাহমুদ জানিয়েছেন, নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ায় মামলার অগ্রগতি কিছুটা বেড়েছে। তিনি বলেন, সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে জোর প্রচেষ্টা চলছে এবং এ বছরের মধ্যেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে রায় পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
মামলায় মোট ৫৯৪ জনকে সাক্ষী করা হলেও এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৪৫ জন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ খান খোকন দাবি করেছেন, সোহেল রানা নির্দোষ এবং দীর্ঘদিন বিচার না হওয়ায় তাকে অন্যায়ভাবে কারাগারে রাখা হয়েছে। তার মতে, ভবন ধসটি একটি দুর্ঘটনা ছিল।
দীর্ঘদিন ধরে বিচার ঝুলে থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তাদের প্রশ্ন—রানা প্লাজার সেই ভয়াবহ মৃত্যুর ঘটনার বিচার শেষ হবে কবে?
পড়ুন: লেবানন–ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ৩ সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের
আর/


