বিজ্ঞাপন

স্টেশনের কুকুরসঙ্গী ‘শ্রাবণ’ এখন পুনর্বাসনের পথে, মানবিক উদ্যোগে বদলে গেল এক শিশুর জীবন

মানুষের ভিড়ে থেকেও মানুষহীন এক জীবন—সেই জীবনের সঙ্গী ছিল দুইটি কুকুর। জামালপুরের ইসলামপুর রেলস্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে এমন অস্বাভাবিক বাস্তবতায় দিন কাটাচ্ছিল পথশিশু শ্রাবণ। তবে প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগে এবার কুকুরসঙ্গ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে সাত বছরের এই শিশু।

বিজ্ঞাপন


জানা গেছে, শ্রাবণের বাড়ি শেরপুর সদর উপজেলার কুসুমহাটি এলাকায়। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মাকে হারানোর পর বাবার দ্বিতীয় বিয়ে তার জীবনে নিয়ে আসে নতুন সংকট। সৎ মায়ের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে সে। ঘুরতে ঘুরতে আশ্রয় নেয় ইসলামপুর রেলওয়ে স্টেশনে, যেখানে মানুষের বদলে তার সঙ্গী হয়ে ওঠে দুইটি পথকুকুর।
স্টেশনের কোলাহল, ট্রেনের হুইসেল আর ব্যস্ততার মাঝেও শ্রাবণের জীবন ছিল ভিন্ন এক জগতে আবদ্ধ। কখনো কুকুরকে ঘোড়া বানিয়ে খেলা, কখনো তাদের গায়ে মাথা রেখে ঘুম—অদ্ভুত এই বন্ধনে কেটে গেছে তার গত সাত মাস। নিজের খাবারের বড় একটি অংশ কুকুরদের সঙ্গে ভাগ করে নিত সে। অভাবের মাঝেও ছিল অকৃত্রিম মমতা।

বিষয়টি নাগরিক টিভিতে প্রতিবেন সম্প্রচারে নজরে এলে তা পৌঁছে যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসাইনের কাছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেন তিনি।

গত রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তাঁর তত্ত্বাবধানে সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে পুলিশি নিরাপত্তায় শ্রাবণকে জামালপুরের সমন্বিত শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
উপজেলা শিশুসুরক্ষা সমাজকর্মী আনোয়ার হোসেন জানান, প্রশাসনের নির্দেশনায় শিশুটিকে নিরাপদ পরিবেশে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে তার থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
ইউএনও নাজমুল হুসাইন বলেন, “একটি শিশু কুকুরের সঙ্গে বসবাস করছে—এমন তথ্য পাওয়ার পরপরই আমরা তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিই। শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ, তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।”

স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি শিশুর পুনর্বাসন নয়, বরং মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যথাযথ পরিচর্যা ও সুযোগ পেলে শ্রাবণও একদিন সমাজের মূলধারায় ফিরে আসবে—এমন প্রত্যাশা সবার।

পড়ুন- পিরোজপুরে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

দেখুন- ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বেকারত্বের কারখানা বানানো যাবে না’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন