পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৮টি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় নিশ্চিত করেছে বিজেপি। এর মধ্য দিয়ে অবসান হলো তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেডি ২০৮টিতে সংখ্যাগরিষ্ঠাতা পেয়েছে। তৃণমূল পেয়েছে ৭৯টি আসন। যদিও এর মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় নির্বাচনী অপরাধ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভঙ্গের অভিযোগে সমগ্র বিধানসভার ভোট বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ওই কেন্দ্রে ফের ভোট হবে ২১ মে, আর গণনা ২৪ মে।
প্রতিবেদন অনুসারে, বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম ১টি, কংগ্রেস ২টি এবং অন্যান্য দল ৩টি আসন পেয়েছে।
এদিকে, নিজের আসনেও হেরে গেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা ভবানীপুরের ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবেই পরিচিত। অথচ সেই নিজের ঘরেই হারতে হল তৃণমূল নেত্রীকে। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়তে গিয়েছিলেন মমতা। পরাস্ত হয়েছিলেন। এবার সেই আসনে মমতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। তাতে পরাস্ত হলেন তৃণমূলনেত্রী। ঘরের মেয়েকে হারতে হল ঘরেই।
নিজের আসন ভবানীপুরকে ‘বড়বোন’ এবং নন্দীগ্রামকে ‘মেজোবোন’ বলে সম্বোধন করেন মমতা। ‘মেজোবোনের’ কাছে পাঁচ বছর আগেই হেরেছিলেন। সেবারও হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এবার ‘বড়বোন’ ভবানীপুরেও হারলেন তিনি। হারালেন সেই শুভেন্দুই।
ভবানীপুর আসনের ফল ঘোষণার আগেই নন্দীগ্রামের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়ে গেছে। নন্দীগ্রামে আগেই বিজয়ী ঘোষিত হয়েছেন। এবার ভবানীপুর আসনও জিতে নিলেন বিরোধী দলনেতা। মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে তারই আসনে যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন, তাতে সাফল্য পেলেন শুভেন্দু।
সোমবার (৪ মে) ভোট গণনাপর্বের শুরু থেকে ছিল টানটান উত্তেজনা। লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, সেই আভাস মিলেছিল সকাল থেকেই। ২০ রাউন্ডের গণনা— প্রথম রাউন্ড থেকেই শুরু হয়েছিল স্নায়ুর লড়াই। প্রথম রাউন্ডে মমতা এগিয়ে, তো দ্বিতীয় রাউন্ডে শুভেন্দু, তার পরের রাউন্ডে আবার এগিয়ে মমতা। প্রথম দিকের কয়েকটি রাউন্ড চলে এভাবেই।
পরে, পঞ্চদশ রাউন্ড পর্যন্ত টানা এগিয়ে ছিলেন মমতা। যদিও সপ্তম রাউন্ড থেকে টানা নিজের ভোট বৃদ্ধি করতে থাকেন শুভেন্দু। কমাতে থাকেন ব্যবধান। প্রতি রাউন্ডে একটু একটু করে ব্যবধান কমিয়ে ষোড়শ রাউন্ডে গিয়ে মমতাকে ছাপিয়ে যান তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালের ২০ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর পূর্ণ করেছে। তিনি টানা তিনবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাজ্যের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন। তবে এবার বিজেপির কাছে হারলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

