বিজ্ঞাপন

ঘাতকের শাস্তির দাবিতে নেত্রকোনায় গোরখোদক হত্যার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় কবরস্থানের সেচ্ছাসেবক ও গোরখোদক ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং ঘাতক নূর মোহাম্মদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দুর্গাপুর।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (০৮ মে) বাদ জুম্মা উপজেলার তেরীবাজার এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচীতে এই দাবি জানানো হয়।

গত শনিবার (২ মে) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তেরীবাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নূর মোহাম্মদ নামক এক যুবক কেলিসকে লক্ষ্য করে অতর্কিত ছুরিকাঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহত কেলিস ওই এলাকার মৃত আব্দুল মৃধার ছেলে।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই দুর্গাপুর থানা পুলিশ অভিযানে নামে। ঘটনার রাতেই পুলিশ ঘাতক নূর মোহাম্মদের মা ও বোন জামাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরবর্তীতে পরদিন ভোরে নেত্রকোনা পৌর শহরের মালনী এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ মূল ঘাতক নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে তেরীবাজার এলাকায় আয়োজিত ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচীতে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। এ সময় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‍“কেলিস ছিলেন একজন সমাজসেবক, যিনি নিঃস্বার্থভাবে মানুষের শেষ বিদায়ের সঙ্গী হতেন। তাকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

বক্তারা আরও জানান, কেলিসের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারটি চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তার স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বৃদ্ধা শাশুড়ি বর্তমানে তীব্র অর্থকষ্টে ভুগছেন। বক্তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে ঘাতক নূর মোহাম্মদের সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসির দাবি জানান।

অবস্থান কর্মসূচীতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন- মুফতি আশরাফুর রহমান আনসারী, নায়েবে মুহতামিম, শফিকুল আলম সজীব, ফারুক মড়ল, রফিকুল ইসলাম, শাখাওয়াত হোসেন সজীব, হাজী সুমন মিয়া, মোশারফ সরকার, মীর ফরিদ মিন্টু, মাহমুদুল হাসান সুজন, রামি সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

কর্মসূচী শেষে নিহতের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয় এবং ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

পড়ুন- অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন