দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে অবশেষে নিজেদের উদ্যোগেই বাঁশের সাকোঁ নির্মাণ করেছেন ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের মধুরচর এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয় মানুষের অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত এ সেতুর মাধ্যমে উপকৃত হবেন অন্তত পাঁচ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। শনিবার বিকেলে সাকোঁটি সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহু বছর ধরে খাল পারাপারে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছিল এলাকাবাসীকে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতেন। বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বৃদ্ধি পেলে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যেত। অনেক সময় জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় বিপাকে পড়তে হতো পরিবারগুলোকে।
এ অবস্থায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুতারপাড়া ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী চঞ্চল মোল্লার উদ্যোগে এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বাঁশের সাকোঁটি নির্মাণ করা হয়। এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যেই সাকোঁর কাজ সম্পন্ন হয়।
সেতু উদ্বোধনের খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পাড়ে ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষ। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, তরুণ,বৃদ্ধ, নারী ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উদ্বোধনের আগে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী চঞ্চল মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এই খাল পারাপারে সীমাহীন কষ্ট ভোগ করছিল। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। মানুষের কষ্ট দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত একটি অস্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সাকোঁর মাধ্যমে অন্তত সাধারণ মানুষের চলাচল কিছুটা সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা সদর, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যাতায়াতের জন্য এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখানে কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় বছরের পর বছর মানুষ অবহেলার শিকার হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হালিম মাদবরের অভিযোগ, প্রতি নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা এলাকায় এসে পাকা সাকোঁর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষ হলে আর কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। ফলে বাধ্য হয়েই এলাকাবাসী চাঁদা তুলে ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁশের সাকোঁর নির্মাণ করেছেন।
তবে এলাকাবাসী বলছেন, এটি কেবল সাময়িক সমাধান। এক বছর না পেরোতেই বাঁশের কাঠামো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই দ্রুত একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মহসিন মোল্লা বলেন, একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে শুধু যাতায়াত ব্যবস্থাই উন্নত হবে না, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
এলাকাবাসী দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ঢাকা -১ আসনের সাংসদ খোন্দকার আবু আশফাক এমপির সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
পড়ুন : রূপগঞ্জ সাহিত্য পরিষদের কবি আসাদ আল মনসুর ও রতন সরকারের লেখা দু’টি গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব


