বিজ্ঞাপন

ইরান যুদ্ধে ৪২টি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

চলমান ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪২টি অত্যাধুনিক সামরিক বিমান ও ড্রোন সম্পূর্ণ ধ্বংস অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের স্বাধীন গবেষণা সংস্থা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও গোপনীয়তার কারণে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন জানায়, ইরানে তাদের অপারেশন এপিক ফিউরিতে প্রায় ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা) ব্যয় হয়েছে। ১২ মে মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে পেন্টাগনের অর্থপ্রধান জুলস হার্স্ট বলেছিলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামত এবং ধ্বংস হওয়া যুদ্ধবিমানের পরিবর্তে নতুন বিমান প্রতিস্থাপন করতেই সামরিক ব্যয় এতটা বৃদ্ধি পেয়েছে।’

কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যে ৪২টি বিমান ও ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, তার তালিকা নিচে দেওয়া হলো—

২৪টি এমকিউ-৯ রিপার মাঝারি উচ্চতার দূরপাল্লার ড্রোন, ৪টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল ফাইটার জেট, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ স্টিলথ ফাইটার জেট, একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ গ্রাউন্ড-অ্যাটাক বিমান, ৭টি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাংকার বা আকাশে জ্বালানি রিফুয়েলিং করার বিমান, একটি ই-৩ সেন্ট্রি যুদ্ধকালীন আগাম সতর্কবার্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার বিশেষ বিমান, ২টি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ বিশেষ অভিযানের বিমান, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২ যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ও একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন উচ্চতার দূরপাল্লার নজরদারি ড্রোন।

তবে পেন্টাগন বা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির কোনো সামগ্রিক তালিকা প্রকাশ করেনি। সিআরএস মূলত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ও সেন্ট্রাল কমান্ডের বিভিন্ন খণ্ড খণ্ড বিবৃতি এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে তালিকাটি তৈরি করেছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর সমন্বিত বিমান হামলা চালালে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব নিহত হন। পরে গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়।

এদিকে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করে ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। তিনি দাবি করেছেন, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির আগে দুই মাসের সরাসরি যুদ্ধ থেকে ইরান মার্কিন সামরিক বাহিনীর শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি পুনরায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ শুরু করেন, তবে মার্কিন বাহিনী আরও বড় ‘সারপ্রাইজ’ বা বিস্ময়ের মুখোমুখি হবে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে যাবে যুদ্ধ : ইরান

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন