বিজ্ঞাপন

সনিয়ার হত্যার বিচার পাব তো? বুকফাটা আর্তনাদ পরিবারের

কবরস্থানের নীরবতা ভেঙে চার মাস পর আবারও আলোয় আনা হয়েছিল ১৫ বছরের তরুণী সনিয়া আক্তারের নিথর দেহ। আদালতের নির্দেশে গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তেউরিয়া গ্রামে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছিল। কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার তেউরিয়া গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিজের আদরের মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার আর ময়নাতদন্তের রিপোর্টের আশায় বুক বেঁধে চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে সনিয়ার পরিবার।

গত চার মাস আগে নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল তাড়াইল উপজেলার তেউরিয়া গ্রামের বাসিন্দা তারু খানের মেয়ে ও স্থানীয় মাদ্রাসাছাত্রী সনিয়া আক্তারের (১৫) মরদেহ। ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করায় প্রাথমিক অবস্থায় ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুরু থেকেই পরিবারের দাবি ছিল—এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

পরিবারের অভিযোগ, অপরাধীরা সনিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নিতে এবং নিজেদের পাপ ধামাচাপা দিতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছিল।

আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। ওরা আমার সোনা পাখিটারে মাইরা ঝুলিয়ে রেখেছেন। আমরা গরিব বলে কি বিচার পাব না? আমি আমার মেয়ের হত্যা কারীদের বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন করি, বারবার অশ্রুভেজা চোখে বিলাপ করতে করতে বলছিলেন সনিয়ার অসহায় পিতা তারু খান।

মেয়ের মৃত্যুর পর থেকেই ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন তারু খান। স্থানীয়ভাবে কোনো সুষ্ঠু প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে তিনি বাদী হয়ে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশেই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গত চার মাস পর সনিয়ার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে সনিয়ার পরিবার প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এক বুক কষ্ট আর চোখের জল নিয়ে তারা শুধু একটি কথাই জানতে চান কখন আসবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট? কখন ধরা পড়বে সনিয়ার আসল খুনিরা?

সনিয়ার মতো এক শান্ত ও মেধাবী মাদ্রাসাছাত্রীর এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে পুরো তাড়াইল উপজেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এলাকাবাসীর মনেও এখন একটাই প্রশ্ন, একটি পরিবার কেন তাদের সন্তান হারিয়ে এভাবে দ্বারে দ্বারে ঘুরবে?

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন যেন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই মামলার তদন্ত শেষ করে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশ করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনে এটাই এখন সনিয়ার পরিবার ও সাধারণ মানুষের একমাত্র আকুতি। চার মাসের জমে থাকা কান্না আর অপেক্ষার প্রহর যেন এবার শেষ হয়, ফিরে আসে ন্যায়বিচার।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বোনের সাথে প্রেমের সম্পর্কের জেরে প্রেমিককে হত্যা; ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন