বিজ্ঞাপন

দিনাজপুরে ডিআইএসটি’তে ‘সচেতনতাই পরিবেশ রক্ষার সেরা উপায়’শীর্ষক জমকালো বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

দিনাজপুর ইনস্টিটিউট অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ডিআইএসটি)-এর উদ্যোগে এসেট প্রকল্পের আওতায় ‘সচেতনতাই পরিবেশ রক্ষার সেরা উপায়’ শীর্ষক এক জমকালো বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন


শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) সকালে শহরের পাহাড়পুরস্থ প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব মিলনায়তনে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। যুক্তি-তর্কের তুমুল লড়াই শেষে প্রতিযোগিতায় পক্ষে অংশ নেওয়া দল ‘ভয়েজ অব লজিক’ বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এনডিসি। এসময় তিনি দক্ষ জনশক্তি গঠনে কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি মেধা ও যুক্তিনির্ভর সমাজ বিনির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সচিব বলেন, কেবলমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই একজন মানুষকে পূর্ণাঙ্গ করে তুলতে পারে না। শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও নেতৃত্ব গুণের বিকাশে বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের ভূমিকা অপরিসীম। কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি এ ধরনের বুদ্ধিভিত্তিক চর্চা শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।
এছাড়াও সচিব মো. দাউদ মিয়া আরও বলেন, দেশব্যাপী কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে ‘এসেট’ প্রকল্প অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতা বৃদ্ধিতে ডিআইএসটি-এর চলমান কার্যক্রম প্রশংসার দাবিদার।
ডিআইএসটি-এর অধ্যক্ষ মো. মামুনুর ফেরদৌসের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এসেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সামসুর রহমান খান এবং দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুর রশীদ।
এসময় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এস এম হাবিবুল হাসানসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
“সচেতনতাই পরিবেশ রক্ষার সেরা উপায়” এই বিষয়ের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে ‘ভয়েজ অব লজিক’ দল। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন আবু তালহা মো. ফাহাদ ইফতি এবং অন্য দুই বক্তা হিসেবে ছিলেন মাহমুদুল হাসান ও সৈয়দ ফাহিম কবির। অন্যদিকে, বিষয়ের বিপক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরে রানার্সআপ হওয়া দল ‘নীলকণ্ঠ’। দলনেতা নিতাই বর্মনের সাথে এই দলে অন্য দুই বক্তা হিসেবে ছিলেন মো. হাসিব ও ফজলে রাব্বী।
অনুষ্ঠানে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন ফরহাদ সাফায়েতুল কবির। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাসরিন আক্তার, মো. সেলিম সোহাগ ও মোছা. শাহিনা আক্তার। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন লেখক বিজয় মজুমদার।
উভয় দলের বিতার্কিকদের যুক্তি-পাল্টা যুক্তির চমৎকার উপস্থাপনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার হিসেবে সনদপত্র তুলে দেন ডিআইএসটি-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুর রশীদ এবং অধ্যক্ষ মো. মামুনুর ফেরদৌস। বিতার্কিকদের চমৎকার উপস্থাপনা ও যুক্তির আবহ উপস্থিত দর্শকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সামসুর রহমান খান বলেন, “আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা বহুমুখী শিক্ষায় দক্ষ হয়ে উঠুক। শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার জানলেই চলবে না, পাশাপাশি তাদের বিতর্ক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাও করতে হবে। বিতর্ক থেকেই মূলত শিক্ষার্থীদের মাঝে সহনশীলতা এবং জানার গভীরতা তৈরি হয়। আর এই জানার মাধ্যমেই আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজেদের আরও বেশি আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।”
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান যুগ কেবল সনাতনী শিক্ষার নয়, বরং দক্ষতা ও মেধার সঠিক সমন্বয়ের যুগ। পরিবেশ সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তরুণ প্রজন্মের এই সচেতনতা ও যুক্তি-তর্ক সত্যিই প্রশংসনীয়। সমাজকে বদলে দিতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের শিক্ষার্থীদের এমন যৌক্তিক চিন্তাভাবনা ও পরিবেশ সচেতনতা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুর রশীদ বলেন, “ডিআইএসটি শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে, তাদের সৃজনশীল ও মননশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। এসেট প্রকল্পের সহায়তায় আমাদের এই অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হয়েছে। আগামীতেও আমরা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এ ধরনের শিক্ষাবান্ধব ও সচেতনতামূলক আয়োজন অব্যাহত রাখব।”


সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. মামুনুর ফেরদৌস বলেন, “কারিগরি শিক্ষাকে আমরা এমন একটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই, যেন আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু কর্মসংস্থানই তৈরি না করে, বরং দেশের এবং সমাজের সার্বিক উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখতে পারে। আমরা সেই লক্ষ্য ও চেষ্টা নিয়েই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
অনুষ্ঠান শেষে ডিআইএসটির বিভিন্ন ল্যাব ঘুরে দেখেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

পড়ুন- শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: মিরপুর ১০ নম্বরে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন