নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নে সরকারি ভিজিএফ (ভিলেজ গ্রোথ ফান্ড) চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সারোয়ার জাহান কাউসারের বিরুদ্ধে সরকারি তালিকা অনুসরণ না করে নিজস্ব পছন্দের ব্যক্তিদের কার্ড বিতরণ এবং নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারীদের সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদ উপলক্ষে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক দুস্থ ও সুবিধাভোগী পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিনামূল্যে বিতরণ করার কথা। কিন্তু নওপাড়া ইউনিয়নে অনেক সুবিধাভোগীকে ১০ কেজির স্থলে মাত্র আট থেকে সাড়ে আট কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রকৃত দুস্থদের বাদ দিয়ে ভিজিএফের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম এবং চেয়ারম্যানের নিজস্ব ও পছন্দের ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ইউনিয়নের ভিজিএফ কার্ডের ছবি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ওই কার্ডে সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউপি চেয়ারম্যান সারোয়ার জাহান কাউসারের ছবি এবং স্বাক্ষর দেখা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি কার্ডে ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত। কার্ডের গায়ে স্পষ্ট অক্ষরে “পরিমাণ: ১০ কেজি” উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে চাল কম দেওয়া হচ্ছে বলে একাধিক সুবিধাভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার (২৩ মে) বিকাল ৪টায় নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাল বিতরণ কার্যক্রম চললেও সেখানে উপস্থিত থাকার কথা থাকা ট্যাগ অফিসার ড. সাখাওয়াত হোসেন তারেক উপস্থিত ছিলেন না। সুবিধাভোগীরা চেয়ারম্যান সারোয়ার জাহান কাউসারের ছবি সংবলিত স্লিপ বা কার্ড জমা দিয়ে চাল গ্রহণ করছেন।
তবে বিতরণের ক্ষেত্রে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। চাল নিতে আসা কাউরাট গ্রামের বাসিন্দা আলম মিয়া জানান, “আমি স্লিপ অনুযায়ী ১০ কেজি চালই পেয়েছি। আমার সামনে বা আমার চোখে কোনো ধরনের অনিয়ম পড়েনি।”
অনিয়ম ও চাল কম দেওয়ার সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন, নওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সারোয়ার জাহান কাউসার। তিনি বলেন, “ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে সকাল ১০টা থেকে সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। একটি অখ্যাত অনলাইন পোর্টাল আমাদের কোনো বক্তব্য না নিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেছে। একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিকভাবে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্যাগ অফিসার ড. সাখাওয়াত হোসেন তারেক বলেন, “সকালে আমার উপস্থিতিতেই সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ শুরু হয়েছিল। আমি থাকা অবস্থায় কোথাও কোনো অনিয়ম দেখিনি এবং কেউ কোনো অভিযোগও করেননি। তবে দুপুর ১২টার দিকে জরুরি দাপ্তরিক কাজে আমাকে সেখান থেকে চলে আসতে হয়েছে।” দুপুরের পর কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
বিষয়টি নিয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাতুল ইসলাম বলেন, “নওপাড়া ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণের বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পড়ুন : আমাদের জান-মালের নিরাপত্তা নাই, আমাদের বাঁচান: ডেপুটি স্পীকারের প্রতি আকুতি


