ঢাকার ধামরাইয়ে আলোচিত গৃহবধূ রূপা আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) বিকেলে ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিদওয়ান আহমদ রাফি’র উপস্থিতিতে ধামরাই উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের রামভদ্রপাড়া এলাকার জামীরা বাড়ি কবরস্থান থেকে রূপা আক্তারের মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
নিহত রূপা আক্তার (২৫) ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের আমড়াইল রাঙ্গাপাড়া এলাকার মো. জাকির হোসেনের স্ত্রী। গত ২৮ নভেম্বর রাতে বাইশাকান্দা ইউনিয়নের বাগাইর এলাকার একটি টিনশেড বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে ধরা হলেও পরে নিহতের পরিবার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এনে নিহতের দেবর পুলিশ সদস্য শাওন হাসানের বিরুদ্ধে আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন।
পরিবারের অভিযোগ, রূপার দেবর পুলিশ সদস্য শাওন হাসানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রূপার প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। ঘটনার আগের রাত ও ঘটনার রাতেও তাকে রূপার বাসায় যেতে দেখা গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। পরে রূপাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের চার বছরের শিশুকন্যা জিনিয়ার বক্তব্যে ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শিশুটির দাবি, তার মাকে গলা টিপে ও রশি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে বলে আশা করছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মরদেহ উত্তোলনের সময় পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. খালেদ, ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আকিব হোসেন, নিহতের স্বামী জাকির হোসেনসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন- ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ


