লিবিয়ায় আটকে পড়া ১৭৪ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিক আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর বিশেষ সহায়তায় সোমবার (১ জুন) স্বেচ্ছায় দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন।
লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে লিবিয়া সরকার ও আইওএম-এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ত্রিপোলি থেকে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, এদিন ভোর ৫টা ১০ মিনিটে বুরাক এয়ারের ‘ইউজেড-০২২২’ নামের একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছান।
দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।
দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রপথে যাত্রার আগে এবং লিবিয়ায় অবস্থানকালে তাদের অনেকে বিভিন্ন সময়ে মানবপাচারকারী চক্রের হাতে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আইওএম-এর কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের অভ্যর্থনা জানান। অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিবিয়ায় তাদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সমাজের অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
আইওএম-এর পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে প্রত্যাবাসিত প্রত্যেক বাংলাদেশি নাগরিককে বাড়ি ফেরার প্রয়োজনীয় পথখরচ, জরুরি খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সাময়িক আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
লিবিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা অন্যান্য অনিয়মিত বাংলাদেশিদেরও পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।


